Logo

চোরাই মসলায় ভরে গেছে বাজার, বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম
১৩ মে, ২০২৬, ১৯:৪২
চোরাই মসলায় ভরে গেছে বাজার, বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার
ছবি : এআই দিয়ে তৈরি

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ বাজারে বেড়েছে মসলার সরবরাহ। তবে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এর বড় অংশই সীমান্ত দিয়ে চোরাই পথে দেশে ঢুকছে। ফলে কম দামে বিক্রি হওয়া এসব মসলার কারণে ক্ষতির মুখে পড়ছেন বৈধ আমদানিকারকরা। একই সঙ্গে সরকারও হারাচ্ছে বিপুল রাজস্ব।

বিজ্ঞাপন

দেশের অন্যতম বৃহৎ পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারত সীমান্ত হয়ে অবাধে জিরা, এলাচ, লবঙ্গ, কিশমিশ, কাজুবাদামসহ বিভিন্ন মসলাজাতীয় পণ্য দেশে প্রবেশ করছে। এসব পণ্যে কোনো শুল্ক না থাকায় বাজারে কম দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে। এতে বৈধভাবে আমদানি করা পণ্য প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না।

কোরবানির সময় মাংস রান্নায় ব্যবহৃত গরম মসলার চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। চিকন জিরা, এলাচ, লবঙ্গ, গোলমরিচ ও দারুচিনির মতো মসলার বিক্রি এ সময় সবচেয়ে বেশি হয়।

বিজ্ঞাপন

খাতুনগঞ্জের ইলিয়াছ মার্কেট ও জাফর মার্কেট ঘিরে গড়ে উঠেছে দেশের অন্যতম বড় মসলার পাইকারি বাজার। ব্যবসায়ীরা জানান, দেশের মোট চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশ গরম মসলা বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়।

ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী— এলাচ সবচেয়ে বেশি আসে গুয়েতেমালা থেকে; দারুচিনি আমদানি হয় চীন ও ভিয়েতনাম থেকে; লবঙ্গ আসে ইন্দোনেশিয়া, মাদাগাস্কার ও ভারত থেকে; গোলমরিচ আসে ভিয়েতনাম থেকে এবং চিকন জিরার বড় অংশ আসে ভারত থেকে। এ ছাড়া আফগানিস্তান ও চীন থেকেও কিছু মসলা আমদানি হয়।

খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, সিলেট, কুমিল্লা ও ফেনী সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ মসলা বাংলাদেশে ঢুকছে। নানা কৌশলে এসব পণ্য নিয়ে আসছে চোরাকারবারিরা।

বিজ্ঞাপন

কিছু ব্যবসায়ী চক্রও এই অবৈধ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।

আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স গুলিস্তান ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী আবদুর রাজ্জাক বলেন, সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে মসলা ঢোকার কারণে বৈধ ব্যবসা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। জিরায় প্রতি কেজিতে ২২০ থেকে ২৫০ টাকা এবং এলাচে ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত শুল্ক হারাচ্ছে সরকার।

ব্যবসায়ীদের দাবি, শুল্ক পরিশোধ করে আমদানি করা জিরার কেজিপ্রতি খরচ পড়ে প্রায় ৫৩০ টাকা। অথচ চোরাই পথে আসা জিরা বাজারে ৫০০ টাকাতেও বিক্রি হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

একইভাবে এলাচের ক্ষেত্রেও বৈধ আমদানির খরচ বেশি হলেও অবৈধ পথে আনা পণ্য কম দামে বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে বৈধ ব্যবসায়ীরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন।

খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী মো. বাদশা বলেন, কিছু সিন্ডিকেট কম দামে মসলা বিক্রি করে পুরো বাজারে অস্থিরতা তৈরি করছে।

বিজ্ঞাপন

ব্যবসায়ীরা জানান, গত এক মাসে প্রায় সব ধরনের মসলার দাম কিছুটা কমেছে। বর্তমানে— জিরা বিক্রি হচ্ছে ৫২০-৫৩০ টাকা কেজি, এলাচ ৩৭০০ টাকায়, লবঙ্গ ১২৬০ টাকায় এবং দারুচিনি ৪২০ টাকায়। এক মাস আগে এসব পণ্যের দাম তুলনামূলক বেশি ছিল।

রাষ্ট্রীয় সংস্থা টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার পাইকারি বাজারে বর্তমানে জিরা বিক্রি হচ্ছে ৫৬০ থেকে ৬৮০ টাকায়। এ ছাড়া— দারুচিনি ৩৭০-৪০০ টাকা, লবঙ্গ ১২০০-১৩২০ টাকা, এলাচ ৪০০০-৪৮০০ টাকা এবং গোলমরিচ ১০২০-১০৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

গত মাসের তুলনায় বেশ কয়েকটি পণ্যের দাম কমেছে বলেও টিসিবির তথ্যে দেখা গেছে।

বিজ্ঞাপন

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, দেশের বাজারের তুলনায় সীমান্তের ওপারে দাম কম থাকলে সবসময়ই চোরাই পথে পণ্য আসার ঝুঁকি থাকে।

তিনি বলেন, এবার বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি হওয়ায় দাম কিছুটা কমেছে। তবে চোরাই পথে পণ্য প্রবেশ বন্ধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। এতে যেমন বাজারে শৃঙ্খলা ফিরবে, তেমনি রাজস্ব ফাঁকিও কমানো সম্ভব হবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD