Logo

আবারও বেড়েছে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ জুন, ২০২৬, ২০:৩৭
আবারও বেড়েছে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ
ছবি: সংগৃহীত

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে আবারও ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট বা গ্রস বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৫ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নির্ধারিত হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ীও রিজার্ভের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (২৩ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান রিজার্ভ সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্য প্রকাশ করেন। এতে দেখা যায়, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, ২৩ জুন পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজার ৭৯৮ দশমিক ১১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৩৫ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে আইএমএফের বিপিএম-৬ (ব্যালান্স অব পেমেন্টস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল-৬) পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩১ হাজার ২৪৪ দশমিক ২২ মিলিয়ন ডলারে।

বিজ্ঞাপন

এর আগের দিন, অর্থাৎ ২২ জুন পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৫ হাজার ৭৩৬ দশমিক ৬১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সে সময় বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩১ হাজার ১৮১ দশমিক ০৬ মিলিয়ন ডলার। ফলে একদিনের ব্যবধানে উভয় হিসাবেই রিজার্ভের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বর্তমানে দুটি পদ্ধতিতে রিজার্ভের হিসাব প্রকাশ করে থাকে। একটি হলো গ্রস বা মোট রিজার্ভ, যেখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে থাকা মোট বৈদেশিক মুদ্রার সম্পদ বিবেচনায় নেওয়া হয়। অন্যটি হলো আইএমএফের বিপিএম-৬ মানদণ্ড অনুযায়ী হিসাব করা রিজার্ভ, যা আন্তর্জাতিকভাবে অধিক গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত।

বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে প্রকৃত বা ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন স্বল্পমেয়াদি দায় এবং নির্দিষ্ট আর্থিক বাধ্যবাধকতা বাদ দেওয়া হয়। ফলে এই পদ্ধতিতে প্রকাশিত রিজার্ভকে অনেক ক্ষেত্রে দেশের প্রকৃত বৈদেশিক মুদ্রার সক্ষমতার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হয়।

বিজ্ঞাপন

অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, ঋণ পরিশোধ, আমদানি ব্যয় মেটানো এবং বৈদেশিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের রিজার্ভ ইতোমধ্যে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করেছে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে আস্থা ধরে রাখতে এটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD