একদিনের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও বাড়ল সোনার দাম

বাংলাদেশের বাজারে একদিনের ব্যবধানেই আবারও বাড়ানো হলো সোনার দাম। মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে বড় অঙ্কে মূল্য কমানোর ঘোষণা দেওয়ার পর এবার নতুন করে দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।
বিজ্ঞাপন
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি সোনার দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়ানো হয়েছে। ফলে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে বাজুস এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন মূল্যতালিকা প্রকাশ করে। সংগঠনটি জানিয়েছে, এদিন সকাল ১০টা থেকে সংশোধিত মূল্য দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে কার্যকর হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এই দামই বহাল থাকবে।
এর আগে ৯ জুলাই সকালে বাজুস সোনার দাম উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমানোর ঘোষণা দিয়েছিল। সে সময় ভরিপ্রতি ২২ ক্যারেট সোনার দাম ৩ হাজার ৩২৪ টাকা কমানো হয়েছিল। পাশাপাশি অন্যান্য ক্যারেটের সোনার দামও হ্রাস করা হয়। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার মাত্র একদিনের মধ্যেই আবারও দাম বাড়ানোর ঘোষণা এলো।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বাজুসের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন করে সোনার দাম সমন্বয় করতে হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের প্রবণতা, স্থানীয় কাঁচামালের মূল্য এবং সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখেই এই নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে সংগঠনটি জানিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
নতুন মূল্য অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম এখন ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা। দেশের জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা এই মূল্য অনুসারেই সোনা বিক্রি করবেন। তবে অলঙ্কারের নকশা, কারিগরি কাজ এবং নির্মাণ ব্যয়ের ওপর নির্ভর করে অতিরিক্ত মজুরি যুক্ত হতে পারে।
বাজুস আরও জানিয়েছে, স্বর্ণালঙ্কার ও রৌপ্য অলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ফলে গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। অর্থাৎ ক্রেতারা যে মূল্য পরিশোধ করবেন, তার মধ্যেই ভ্যাটের হিসাব সংযুক্ত থাকবে।
এ ছাড়া অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ বা পুরোনো গয়না বদলে নতুন গয়না নেওয়ার ক্ষেত্রে বাজুসের বিদ্যমান নীতিমালা অপরিবর্তিত থাকবে। এক্ষেত্রে অলঙ্কারের মূল্য নির্ধারণের সময় সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি এবং ব্যবহৃত পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে হিসাব করা হবে।
বিজ্ঞাপন
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্বর্ণের দামের এমন ঘন ঘন পরিবর্তনের ফলে বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতা—উভয় পক্ষকেই নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে চলতে হচ্ছে। অল্প সময়ের ব্যবধানে মূল্য কমা ও আবার বেড়ে যাওয়ায় অনেক ক্রেতা কেনাকাটার সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধায় পড়ছেন। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরাও প্রতিবার নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালনা করতে বাধ্য হচ্ছেন।
জুয়েলারি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের ওঠানামা, ডলারের বিনিময় হার এবং স্থানীয় বাজারে কাঁচা স্বর্ণের সরবরাহ পরিস্থিতির প্রভাব দেশের বাজারেও পড়ে। এসব কারণেই সময়ে সময়েই বাজুস বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নতুন মূল্য নির্ধারণ করে থাকে।
নতুন ঘোষণার মাধ্যমে আবারও স্পষ্ট হলো, দেশের স্বর্ণবাজারে মূল্য পরিবর্তনের ধারা অব্যাহত রয়েছে। ফলে যারা স্বর্ণ কেনা বা বিক্রির পরিকল্পনা করছেন, তাদের সর্বশেষ মূল্যতালিকা অনুসরণ করে লেনদেন করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।








