Logo

বেড়েছে ডিমের দাম, মাছের বাজারেও নেই স্বস্তি

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১০ জুলাই, ২০২৬, ১৩:০৬
বেড়েছে ডিমের দাম, মাছের বাজারেও নেই স্বস্তি
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর খুচরা বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দামে স্বস্তি মিলছে না সাধারণ ক্রেতাদের। মাংস ও ব্রয়লার মুরগির দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডিমের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে অধিকাংশ দেশি ও সামুদ্রিক মাছের উচ্চমূল্যের কারণে বাজার করতে গিয়ে বাড়তি খরচের মুখে পড়ছেন ভোক্তারা।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (১০ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজারসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি ডজন ফার্মের ডিমের দাম ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে সাদা ও বাদামি ডিমের দামে কিছুটা পার্থক্য থাকলেও উভয় ধরনের ডিমই আগের তুলনায় বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে ব্রাউন বা বাদামি রঙের ফার্মের ডিম প্রতি ডজন ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সাদা ব্রয়লার মুরগির ডিমের দাম ডজনপ্রতি ১২০ টাকার আশপাশে রয়েছে। অথচ গত সপ্তাহেও একই ডিম ১১০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছিল।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

ডিম বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি পর্যায়ে দাম বাড়ায় খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। ফলে আগের দামে ডিম বিক্রি করা তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে গরুর মাংসের বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন না এলেও দাম এখনো অনেকের নাগালের বাইরে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খাসির মাংস কিনতে গেলে কেজিপ্রতি গুনতে হচ্ছে এক হাজার ১০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা।

মুরগির বাজারেও দাম মোটামুটি অপরিবর্তিত রয়েছে। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর সোনালি মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৩৩০ টাকায়।

সবচেয়ে বেশি চাপ অনুভূত হচ্ছে মাছের বাজারে। বেশিরভাগ জনপ্রিয় মাছের দাম এখনো উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। ফলে দৈনন্দিন বাজারের খরচ বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতাদের অসন্তোষ বাড়ছে।

বিজ্ঞাপন

বাজারে মান ও আকারভেদে চিংড়ি মাছের কেজি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, পাবদা ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, বড় আকারের রুই ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং ট্যাংরা মাছ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া ভেটকি মাছের কেজি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, পাঙাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, কৈ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল মাছ প্রায় ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ইলিশের বাজারেও দামের ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত রয়েছে। ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এক কেজি ওজনের ইলিশ কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা।

বিজ্ঞাপন

তবে সব ধরনের মাছের দাম সমানভাবে বাড়েনি। চাষের কৈ, তেলাপিয়া, পাঙাশ, মাঝারি আকারের রুই এবং শিং মাছের দাম তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। আকারভেদে চাষের শিং মাছ ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং মাঝারি রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে রূপচাঁদা, নদীর বোয়াল এবং বড় আকারের শোল মাছ কিনতে গেলে অনেক ক্ষেত্রেই কেজিপ্রতি এক হাজার টাকার বেশি ব্যয় করতে হচ্ছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

রায়েরবাজারের মাছ ব্যবসায়ী মনতাজ উদ্দিন জানান, গত কয়েক মাস ধরে মাছের বাজারে বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি। তার মতে, বড় চিংড়ি, রূপচাঁদা, শোল কিংবা বড় রুইয়ের মতো মাছের দাম বরাবরই কিছুটা বেশি থাকে, কারণ এসব মাছ সাধারণত বেশি সামর্থ্যবান ক্রেতারাই কিনে থাকেন।

তবে তিনি মনে করেন, ইলিশের বর্তমান দাম স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি। তার ভাষ্য, গত তিন থেকে চার বছরে ইলিশের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। বাজারে চাহিদা বেশি থাকলেও সরবরাহ সেই তুলনায় কম হওয়ায় দাম বাড়ছে।

বিজ্ঞাপন

ধানমন্ডির বাসিন্দা আনিসুর রহমান বাজার করতে এসে বলেন, তিনি শোল মাছ ৭০০ টাকা কেজি এবং ভেটকি ৪০০ টাকা কেজি দরে কিনেছেন। তার মতে, প্রায় সব ধরনের মাছের দামই বেশি। বৃষ্টির প্রভাব রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত না হলেও বর্তমানে বাজারে মাছ কিনতে আগের তুলনায় বেশি খরচ হচ্ছে।

ডিম বিক্রেতা মাসুম বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় প্রতি ডজন ডিমের দাম ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে সাদা ব্রয়লার ডিম ১২০ টাকা এবং ব্রাউন ডিম ১৩০ টাকা ডজনে বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি বাজারে মূল্যবৃদ্ধির কারণেই খুচরা বাজারেও দাম বেড়েছে বলে জানান তিনি।

ব্যবসায়ীদের মতে, সরবরাহ ও পাইকারি দামের ওপর নির্ভর করেই আগামী সপ্তাহগুলোতে ডিম ও মাছের বাজারের পরিস্থিতি নির্ধারিত হবে। তবে বর্তমান বাজারদর সাধারণ ক্রেতাদের জন্য অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে বলে মনে করছেন অনেকেই।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD