Logo

অগ্রণী ব্যাংকের লকার থেকে প্রায় ৩ কোটি টাকার স্বর্ণ উধাওয়ের অভিযোগ

profile picture
বিশেষ প্রতিবেদক
১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৮:০০
অগ্রণী ব্যাংকের লকার থেকে প্রায় ৩ কোটি টাকার স্বর্ণ উধাওয়ের অভিযোগ
ফাইল ছবি।

অগ্রণী ব্যাংকের রমনা করপোরেট শাখার একটি লকার থেকে প্রায় তিন কোটি টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার উধাও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কানাডাপ্রবাসী ফারজানা রহমান লিমা অভিযোগ করেছেন, তার সই জাল করে ভুয়া ঘোষণাপত্র তৈরি করে লকার খোলা হয় এবং তার ও তার মায়ের গচ্ছিত স্বর্ণালংকার বের করে নেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

একইসঙ্গে তার সই করা দুটি চেক ব্যবহার করে ৬৮ হাজার ৫০০ টাকা তুলে নেওয়ারও অভিযোগ করেছেন তিনি। এসব ঘটনায় ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশ থাকতে পারে বলে দাবি করেছেন ফারজানা। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের কমন সার্ভিসেস ডিপার্টমেন্টে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।

ফারজানার অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ও তার স্বামী ২০১৯ সালের ১৫ জুন কানাডায় চলে যান। দেশ ছাড়ার আগে অগ্রণী ব্যাংকের রমনা করপোরেট শাখায় মায়ের নামে থাকা ৪০৯ নম্বর লকারে নিজের ও মায়ের স্বর্ণালংকার রেখে যান। তার হিসাবে, তার স্বর্ণালংকারের বর্তমান আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং মায়ের স্বর্ণালংকারের মূল্য প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা—মোট প্রায় ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

তার মা হোস্নে জাহান ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই মারা যান। কানাডায় থাকায় তিনি তখন দেশে আসতে পারেননি। ২০১৯ সালের পর চলতি বছরের ১২ আগস্ট তিনি প্রথমবার দেশে ফেরেন। মায়ের মৃত্যুর পর তার বোন ফারহানা রহমান লকার পরিচালনার জন্য ব্যাংকে আবেদন করেন।

বিজ্ঞাপন

ফারজানার দাবি, তার সই জাল করে একটি মিথ্যা ঘোষণাপত্র তৈরি করে ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়। ব্যাংক তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ না করেই ওই জাল কাগজপত্রের ভিত্তিতে বোনকে লকার খোলার সুযোগ দেয় এবং বৈধ উত্তরাধিকার প্রক্রিয়া ছাড়াই স্বর্ণালংকার বের করে নেওয়া হয়। চলতি বছরের ২৪ আগস্ট ব্যাংকে গিয়ে তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। তখন জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর স্বর্ণ বের করার পর লকারটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া ফারজানা বলেছেন, বিদেশ যাওয়ার আগে মায়ের খরচের জন্য দুটি চেক সই করে রেখে গিয়েছিলেন। ওই চেকগুলো ব্যবহার করে চলতি বছরের ২৭ জুলাই ও ৩ আগস্ট দুটি শাখা থেকে যথাক্রমে ৩০ হাজার ও ৩৮ হাজার ৫০০ টাকা তোলা হয়। ফারহানার প্রতিনিধি হিসেবে ফাহমিদা ও সামিয়া টাকা তুলেছেন বলে তার অভিযোগ।

বোন ফারহানা রহমান সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তার কাছে বোনের সই করা একটি নথির প্রিন্ট কপি রয়েছে, তবে মূল কপি কীভাবে এসেছে তা তিনি জানেন না। লকার থেকে স্বর্ণ বের করার অভিযোগও অস্বীকার করে তিনি দাবি করেন, বোনের গয়নার একটি বাক্স তার কাছে অন্য একটি ব্যাংকের লকারে রয়েছে এবং তিনি সেটি এখনো খোলেননি। চেক জালিয়াতির অভিযোগও ভিত্তিহীন বলে তিনি জানান। তার মতে, বোনের সম্পদ বা লকারের বিষয়ে তাকে কোনো দায়িত্ব দিয়ে যাননি।

বিজ্ঞাপন

অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ারুল ইসলাম বলেছেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে একটি তদন্ত বা অডিট টিম গঠন করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সত্য-মিথ্যা নিয়ে কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়। তদন্তে যদি অভিযোগের সত্যতা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংশ্লিষ্টতা বা অবহেলার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে কঠোর আইনি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, অভিযোগটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে এসেছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে দেখবেন এবং অগ্রণী ব্যাংকের কাছে জবাব চাইবেন। সত্যতা পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফারজানা রহমান প্রশ্ন তুলেছেন—তিনি বিদেশে থাকা অবস্থায় কীভাবে তার স্বর্ণালংকার লকার থেকে বের করা হলো এবং তার অনুপস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র ও ব্যাংকিং কার্যক্রম কীভাবে সম্পন্ন হলো। লকার পরিচালনা, স্বর্ণ উত্তোলন ও ঘোষণাপত্র তৈরির প্রক্রিয়ায় ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত ছিলেন কি না, তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD