Logo

জাপানের বাজারে যাচ্ছে বাংলাদেশে তৈরি গাড়ির সিট কভার

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩০ আগস্ট, ২০২৬, ১৯:০৯
জাপানের বাজারে যাচ্ছে বাংলাদেশে তৈরি গাড়ির সিট কভার
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের তৈরি গাড়ির যন্ত্রাংশের উপস্থিতি আরও বিস্তৃত হচ্ছে। আদমজী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ইপিজেড) অবস্থিত টিএস টেক বাংলাদেশ লিমিটেডের কারখানায় উৎপাদিত গাড়ি ও মোটরসাইকেলের সিটের ট্রিম কভার রপ্তানি হচ্ছে জাপানে।

বিজ্ঞাপন

জাপানে পাঠানো এসব কভার দিয়ে পূর্ণাঙ্গ আসন তৈরি করা হয়। পরে সেই আসন হোন্ডা, সুজুকি, ইয়ামাহা ও কাওয়াসাকিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গাড়ি ও মোটরসাইকেলে সংযোজন করা হয়।

বাংলাদেশে টিএস টেকের কার্যক্রম শুরু হয় ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে। এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি দেশে ৪৬ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে। কারখানাটিতে বর্তমানে প্রায় ৩৭৫ জন কর্মী কাজ করছেন।

গত অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি ১ কোটি ৪৭ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। মূলত জাপানের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সিটের ট্রিম কভার তৈরি করে সরবরাহ করছে বাংলাদেশি কারখানাটি।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেপজা) কাছ থেকে ভাড়া নেওয়া ছয়তলা স্ট্যান্ডার্ড ফ্যাক্টরি বিল্ডিংয়ে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। কারখানায় নির্দিষ্ট নকশা অনুযায়ী চামড়া ও অন্যান্য উপকরণ কেটে বিভিন্ন অংশ সেলাই করে সিটের ট্রিম কভার তৈরি করেন কর্মীরা। এসব কাঁচামালের বড় একটি অংশ জাপান ও চীন থেকে আমদানি করা হয়।

বাংলাদেশে তৈরি কভারগুলো পরবর্তী ধাপে জাপানে টিএস টেকের বিভিন্ন কারখানায় পাঠানো হয়। সেখানে কভার ব্যবহার করে পূর্ণাঙ্গ আসন তৈরি করা হয় এবং সেগুলো সংশ্লিষ্ট গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের কাছে সরবরাহ করা হয়।

টিএস টেক বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাতোরু ওনিশি বলেন, জাপানে আমাদের বড় ক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে হোন্ডা, ইয়ামাহা, সুজুকি ও কাওয়াসাকি। বাংলাদেশে আমরা মূলত গাড়ি ও মোটরসাইকেলের আসনের ট্রিম কভার এবং দরজা ও ছাদের ট্রিমের মতো প্লাস্টিকের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ তৈরি করি। কাঁচামাল কাটা ও সেলাইয়ের কাজ মূলত বাংলাদেশের কারখানায় করা হয়। এরপর জাপানে সম্পূর্ণ আসন তৈরি করা হয় এবং পরে গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো সেগুলো গাড়িতে সংযোজন করে।

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে বাংলাদেশের কারখানাটিতে বছরে প্রায় ২ লাখ ৬ হাজার সিটের ট্রিম কভার উৎপাদন হচ্ছে। আগামী বছরও প্রায় একই পরিমাণ উৎপাদন ধরে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

উৎপাদনের পাশাপাশি কর্মীদের কল্যাণেও বিভিন্ন সুবিধা চালু করেছে টিএস টেক বাংলাদেশ। কারখানাটির মোট কর্মীর প্রায় ৬০ শতাংশ নারী। কর্মজীবী মায়েদের সহায়তার জন্য ২০২৫ সালে কারখানার ভেতরেই চালু করা হয়েছে একটি ডে-কেয়ার সেন্টার।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া গর্ভবতী কর্মীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাও রয়েছে। তাদের সহজে শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার জন্য সবুজ রিবন ব্যবহারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

টিএস টেক একটি বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিভিন্ন দেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ১৩টি প্রতিষ্ঠানের অধীনে তাদের ৭৩টি কারখানা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১ লাখ ৪১ হাজার কর্মী কাজ করেন। এর মধ্যে শুধু জাপানেই কর্মরত রয়েছেন প্রায় ১৬ হাজার কর্মী।

বিজ্ঞাপন

আদমজী ইপিজেডের এই কারখানার রপ্তানি কার্যক্রম বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের বাইরের শিল্পপণ্য রপ্তানির সক্ষমতাকেও তুলে ধরছে। আন্তর্জাতিক অটোমোটিভ সাপ্লাই চেইনে স্থানীয় উৎপাদন যুক্ত হওয়ায় দেশের শিল্পখাতে নতুন সম্ভাবনার ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD