Logo

সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে কঠোর শর্ত দিলো সরকার

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৩ আগস্ট, ২০২৬, ২০:৫৯
সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে কঠোর শর্ত দিলো সরকার
ছবি: সংগৃহীত

দেশের বাজারে সুগন্ধি চালের চাহিদা ও দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় রপ্তানিতে কঠোর হচ্ছে সরকার। আগে অনুমোদন দেওয়া রপ্তানি কোটা পুনর্বিবেচনা করে কমানো বা সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য রপ্তানির অনুমতি পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে তারা প্রকৃতপক্ষে কত পরিমাণ সুগন্ধি চাল রপ্তানি করেছে, তার বিস্তারিত তথ্য জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখা থেকে জারি করা এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, সুগন্ধি চালের বর্তমান বাজার পরিস্থিতি এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আগে দেওয়া রপ্তানি অনুমোদনের পরিমাণ কমানো বা সমন্বয় করা প্রয়োজন। এজন্য অনুমোদন পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রকৃত রপ্তানির পরিমাণের বিস্তারিত তথ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখায় জমা দিতে হবে।

এর ফলে অনুমোদন পাওয়ার পরও যারা নির্ধারিত পরিমাণ সুগন্ধি চাল রপ্তানি করতে পারেনি কিংবা আংশিক রপ্তানি করেছে, তাদের অব্যবহৃত কোটা পুনর্বিবেচনার আওতায় আসতে পারে।

বিজ্ঞাপন

এর আগে ২ আগস্ট বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সুগন্ধি চালের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সভাপতিত্বে ওই সভায় চালের উৎপাদন, অভ্যন্তরীণ চাহিদা, বাজার পরিস্থিতি এবং রপ্তানির প্রকৃত চিত্র পর্যালোচনা করা হয়।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সভায় জানানো হয়, অনুমোদন পাওয়া অনেক প্রতিষ্ঠানই নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী চাল রপ্তানি করতে পারেনি। আবার কিছু প্রতিষ্ঠান আংশিকভাবে রপ্তানি করেছে। ফলে অনুমোদিত কোটা ও প্রকৃত রপ্তানির মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে। এ কারণে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক প্রকৃত রপ্তানির হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

বিজ্ঞাপন

এর আগে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে প্রথম দফায় ১৩ মে ২১১টি এবং দ্বিতীয় দফায় ৬৭টিসহ মোট ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানকে ৪৫ হাজার ২৭০ টন সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়।

বৈঠকে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, দেশের শীর্ষ ১০টি বড় মিল মালিকের কাছে বিপুল পরিমাণ সুগন্ধি চাল মজুদ রয়েছে। বাজারে প্রয়োজন অনুযায়ী চাল সরবরাহ না করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করায় দাম বাড়ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

এর পরিপ্রেক্ষিতে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত মুনাফার প্রবণতা ঠেকাতে কঠোর নজরদারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকে সঙ্গে নিয়ে বাজার মনিটরিং আরও জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

একই সঙ্গে রপ্তানির অনুমতি পেয়েও নির্ধারিত পরিমাণ চাল বিদেশে পাঠাতে না পারা প্রতিষ্ঠানগুলোর অব্যবহৃত কোটা বহাল রাখার যৌক্তিকতাও পর্যালোচনা করা হবে। প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই শেষে অনুমোদিত রপ্তানি কোটা কমানো বা সমন্বয়ের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD