Logo

জুলাইয়ে বাংলা কিউআরে লেনদেন ছাড়াল ১২৫০ কোটি টাকা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৫ আগস্ট, ২০২৬, ১৪:১০
জুলাইয়ে বাংলা কিউআরে লেনদেন ছাড়াল ১২৫০ কোটি টাকা
ছবি: সংগৃহীত

দেশে ডিজিটাল ও ক্যাশলেস লেনদেন জনপ্রিয় করতে চালু হওয়া বাংলা কিউআর (Bangla QR) ব্যবস্থার ব্যবহার ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানের জন্য একক কিউআর কোড বাধ্যতামূলক করার পর এই প্ল্যাটফর্মে লেনদেনের পরিমাণে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই মাসে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে মোট লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ২৫০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। বছরের শুরুতে জানুয়ারি মাসে যেখানে এই অঙ্ক ছিল ২১২ কোটি টাকা, সেখানে মাত্র সাত মাসের ব্যবধানে লেনদেন প্রায় ছয় গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান বলছে, জুলাই মাসে প্রতিদিন গড়ে ৪০ কোটি ৩২ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে। এর আগে জুন মাসে মোট লেনদেন হয়েছিল ৮৪৫ কোটি টাকা। মে মাসে ছিল ৪৭৯ কোটি টাকা, এপ্রিলে ১৯৯ কোটি, মার্চে ২২৯ কোটি এবং ফেব্রুয়ারিতে ২১৮ কোটি টাকার লেনদেন রেকর্ড করা হয়।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশে অভিন্ন ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৩ সালে বাংলা কিউআর চালু করে। এরপর চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে সব ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানের কিউআরভিত্তিক মার্চেন্ট পেমেন্ট এই প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনা বাধ্যতামূলক করা হয়। এর ফলে এখন একটি মাত্র কিউআর কোড স্ক্যান করেই গ্রাহক যেকোনো অংশগ্রহণকারী ব্যাংক বা এমএফএস অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে মূল্য পরিশোধ করতে পারছেন।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ব্যাংক ও এমএফএসসহ মোট ৩৭টি প্রতিষ্ঠান বাংলা কিউআর নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। গত ১ আগস্ট পর্যন্ত নিবন্ধিত মার্চেন্টের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪ লাখ ২৫ হাজার ১৩৩টিতে। মাত্র এক সপ্তাহ আগে, ২৫ জুলাই এই সংখ্যা ছিল ২২ লাখ ৫৫ হাজার ৫৪১। অর্থাৎ মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে নতুন করে প্রায় ১ লাখ ৬৯ হাজার ৫৯২টি মার্চেন্ট এই ব্যবস্থায় যুক্ত হয়েছে।

মার্চেন্ট সংখ্যার বিচারে এখনো শীর্ষে রয়েছে মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ব্যাংকও দ্রুত নতুন বাংলা কিউআর স্থাপনের কার্যক্রম জোরদার করেছে।

গত এক সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি নতুন কিউআর স্থাপন করেছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ। প্রতিষ্ঠানটি ৫০ হাজার ৩০৩টি নতুন মার্চেন্টে বাংলা কিউআর চালু করেছে। ফলে তাদের মোট কিউআরের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২ লাখ ৪ হাজার ৪৫৭টি।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া পূবালী ব্যাংক ৪৫ হাজার ৬৭৩টি নতুন কিউআর সংযোজন করে মোট সংখ্যা ৩ লাখ ৫৩ হাজার ৬৬১টিতে উন্নীত করেছে। একই সময়ে জনতা ব্যাংক ১৭ হাজার ১৪৪টি, রূপালী ব্যাংক ১৪ হাজার ৮৬টি, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ১১ হাজার ৫৮৩টি, অগ্রণী ব্যাংক ৮ হাজার ২২৮টি, সোনালী ব্যাংক ৬ হাজার ৮২২টি, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক ৫ হাজার ২৬৩টি, ব্র্যাক ব্যাংক ৪ হাজার ১৪০টি এবং ট্যাপ পে (টিএপি) ৯৪৫টি নতুন বাংলা কিউআর স্থাপন করেছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আগে একটি দোকানে বিভিন্ন ব্যাংক ও এমএফএসের জন্য আলাদা আলাদা কিউআর কোড রাখতে হতো। এখন একটি অভিন্ন কিউআর কোডের মাধ্যমে সব অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকরা সহজেই মূল্য পরিশোধ করতে পারছেন। এতে ব্যবসায়ী ও গ্রাহক উভয়ের জন্য লেনদেন প্রক্রিয়া সহজ হয়েছে এবং ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতাও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বর্তমানে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে প্রতিটি লেনদেনে মার্চেন্টদের কাছ থেকে ১ শতাংশ হারে চার্জ নেওয়া হয়। তবে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর এই ব্যয় কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি ১০০ কোটি টাকার একটি সহায়তা তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে বাংলা কিউআরের ব্যবহার আরও ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাবে এবং দেশে ক্যাশলেস অর্থনীতি গঠনের পথ আরও সুগম হবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD