Logo

সোনা এখন কিনবেন, নাকি অপেক্ষা করবেন?

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৪ আগস্ট, ২০২৬, ১৭:২৮
সোনা এখন কিনবেন, নাকি অপেক্ষা করবেন?
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে বর্তমানে বড় ধরনের অস্থিরতা না থাকলেও সামনে মূল্য কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে বিনিয়োগকারী ও ক্রেতাদের মধ্যে বাড়ছে কৌতূহল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশের দিকে নজর রাখা উচিত। কারণ, এসব তথ্যের ওপর নির্ভর করেই আগামী দিনে সোনার দামের গতিপথ অনেকাংশে নির্ধারিত হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

বিশ্ববাজারে সোনার দাম আপাতত স্থিতিশীল থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক এবং মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাজারকে সতর্ক অবস্থায় রেখেছে। এসব কারণে বড় বিনিয়োগকারীরা নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।

কেন যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির তথ্য এত গুরুত্বপূর্ণ?

চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে শ্রমবাজার-সংক্রান্ত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত হবে চাকরির শূন্যপদের তথ্য, বুধবার আসবে এডিপি (ADP) কর্মসংস্থান প্রতিবেদন এবং শুক্রবার প্রকাশ করা হবে বহুল আলোচিত নন-ফার্ম পেরোলস (Nonfarm Payrolls)।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

অর্থনীতিবিদদের মতে, এই তিনটি প্রতিবেদনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ আগামীতে সুদের হার বাড়াবে, কমাবে নাকি অপরিবর্তিত রাখবে—সেই সিদ্ধান্ত সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত মিলবে।

বিজ্ঞাপন

শ্রমবাজার দুর্বল হলে কী হতে পারে?

মুম্বাইভিত্তিক কেদিয়া কমোডিটিজের পরিচালক অজয় কেদিয়ার মতে, বর্তমানে সোনার বাজার একটি সমন্বয় পর্যায়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে দুর্বলতার ইঙ্গিত পাওয়া গেলে মার্কিন ডলারের ওপর চাপ সৃষ্টি হতে পারে। ডলারের মূল্য কমলে সাধারণত সোনার প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ে, ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, কর্মসংস্থান পরিস্থিতি শক্তিশালী থাকলে ফেড সুদের হার আরও বাড়াতে পারে। উচ্চ সুদের হার সাধারণত সোনার বাজারের জন্য নেতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হয়, কারণ তখন বিনিয়োগকারীরা সুদবাহী সম্পদের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়েন।

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিও প্রভাব ফেলছে

সোনার বাজারে প্রভাব ফেলছে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিও। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর সুযোগ এখনো রয়েছে। তবে ইরান এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।

বিজ্ঞাপন

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানির দাম বাড়তে পারে, যার ফলে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বৃদ্ধি পাবে। এমন পরিস্থিতিতে অনেক কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়ানোর পথে হাঁটতে পারে।

যদিও মূল্যস্ফীতির সময়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা বাড়ে, তবে সুদের হার বৃদ্ধি সেই ইতিবাচক প্রভাবের একটি অংশ কমিয়ে দিতে পারে।

সামনে কী হতে পারে সোনার দামে?

বিজ্ঞাপন

বাজার বিশ্লেষকদের হিসাব অনুযায়ী, আগামী সেপ্টেম্বরে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন সম্ভাবনা বর্তমানে প্রায় ৬৫ শতাংশ। তবে নতুন অর্থনৈতিক তথ্যের ভিত্তিতে এই সম্ভাবনা কমে গেলে সোনার দামে আবারও ঊর্ধ্বগতি দেখা দিতে পারে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান সিটি পূর্বাভাস দিয়েছে, আগামী এক মাস সোনার দাম বড় ধরনের পরিবর্তন নাও হতে পারে; বরং কিছুটা কমার সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে প্রতিষ্ঠানটি আশাবাদী। তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ প্রান্তিকে প্রতি আউন্স সোনার দাম প্রায় ৪ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। আর আগামী বছরের প্রথমার্ধে তা ৫ হাজার ডলার স্পর্শ করার সম্ভাবনাও রয়েছে।

ক্রেতাদের জন্য কী পরামর্শ?

বিশ্লেষকদের মতে, যারা ব্যক্তিগত ব্যবহার বা বিনিয়োগের জন্য সোনা কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাদের উচিত আগামী কয়েক দিনের আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক তথ্য এবং ফেডারেল রিজার্ভের সম্ভাব্য অবস্থানের দিকে নজর রাখা। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের সর্বশেষ তথ্য প্রকাশের পরই বিশ্ববাজারে সোনার দামে নতুন দিকনির্দেশনা দেখা যেতে পারে।

বিজ্ঞাপন

তথ্য সূত্র: রয়টার্স

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD