সবজির দামে ঊর্ধ্বগতি, চাপে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার

রাজধানীর কাঁচাবাজারে আবারও বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির দাম। মাছ-মাংসের উচ্চমূল্যের কারণে যেসব পরিবার তুলনামূলক কম খরচে পুষ্টির জন্য সবজির ওপর নির্ভর করছিল, তাদের জন্যও এখন বাজার করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অধিকাংশ সবজির কেজি ১০০ টাকার কাছাকাছি বা তারও বেশি দামে বিক্রি হওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ব্যয় বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
বিজ্ঞাপন
বুধবার রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রায় সব ধরনের সবজির দাম আগের তুলনায় চড়া। অনেক ক্রেতা প্রয়োজন অনুযায়ী এক কেজির পরিবর্তে আধা কেজি বা তারও কম পরিমাণে সবজি কিনে বাড়ি ফিরছেন।
ব্যবসায়ীদের দাবি, বর্ষা মৌসুমে টানা বৃষ্টি ও বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষিজমির ক্ষতির কারণে সবজির উৎপাদন ও সরবরাহ কমেছে। ফলে পাইকারি বাজারেই দাম বেড়ে গেছে, যার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে সবজির ঘাটতি তেমন চোখে না পড়লেও দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। তাদের মতে, বাজারে কার্যকর নজরদারির অভাব এবং মূল্য নিয়ন্ত্রণে যথাযথ ব্যবস্থা না থাকায় ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন।
বিজ্ঞাপন
বর্তমানে রাজধানীর বাজারে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে শিম। প্রতি কেজি শিমের দাম ১৮০ থেকে ২২০ টাকার মধ্যে রয়েছে। টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা এবং গাজরের দাম ১১০ থেকে ১৩০ টাকা প্রতি কেজি।
এ ছাড়া বেগুন, বরবটি, করলা, কচুর লতি, ঝিঙা ও কাঁকরোলের দামও অনেক বেশি। বেগুন ও বরবটির কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, করলা ৮০ থেকে ১২০ টাকা, কচুর লতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং ঝিঙা ও কাঁকরোলও প্রায় একই দামে বিক্রি হচ্ছে। শসার কেজি ৬০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে রয়েছে।
তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে কাঁচা পেঁপে, যার কেজি ৩০ থেকে ৪০ টাকা। পটল ৬০ থেকে ৭০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ থেকে ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ থেকে ৭০ টাকা, ধুন্দল ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া ৪০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। একটি লাউ কিনতে গুনতে হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকা, কাঁচা কলার এক হালি ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং এক আঁটি শাকের দাম ১৫ থেকে ২০ টাকা।
বিজ্ঞাপন
সবজির পাশাপাশি আমিষজাতীয় খাদ্যের দামও কমেনি। বাজারে ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকায়। সোনালি মুরগির কেজি ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা। কাঁচা মরিচের দামও বেশি; ২৫০ গ্রাম ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং কেজি হিসেবে কিনলে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা গুনতে হচ্ছে।
রামপুরার বাসিন্দা বেসরকারি চাকরিজীবী মো. সোহেল রানা বলেন, আগে কয়েক ধরনের সবজি এক কেজি করে কিনতেন। এখন দাম বেশি হওয়ায় বাধ্য হয়ে অর্ধেক পরিমাণ কিনতে হচ্ছে। সংসারের ব্যয় সামলাতে প্রতিদিন নতুন করে হিসাব করতে হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
মালিবাগ হাজীপাড়ার পোশাককর্মী রুমা আক্তার বলেন, মাছ-মাংসের দাম অনেক আগেই নাগালের বাইরে চলে গেছে। এখন সবজির দামও এত বেশি যে প্রয়োজনমতো কেনাকাটা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। একটি টমেটো কিনতেও উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে বলে তিনি জানান।
বিজ্ঞাপন
বাড্ডার রিকশাচালক আবদুল কাদের বলেন, প্রতিদিনের আয়ের বড় অংশ এখন খাবার কিনতেই চলে যাচ্ছে। আগে যে টাকায় কয়েক দিনের বাজার করা যেত, এখন তা দুই দিনের বেশি টেকে না। সবজির দাম কমলে সাধারণ মানুষের কিছুটা স্বস্তি ফিরবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা শাহীন আহমেদের মতে, মূল্যস্ফীতির কারণে এমনিতেই জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। তার ওপর সবজির মূল্যবৃদ্ধি মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর নতুন চাপ তৈরি করেছে। তিনি বাজারে নিয়মিত ও কার্যকর সরকারি তদারকি বাড়ানোর আহ্বান জানান।
এদিকে খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, মূল্যবৃদ্ধির জন্য তারা দায়ী নন। রামপুরা বাজারের বিক্রেতা মো. আলমগীর জানান, পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে সবজি কিনতে হচ্ছে। ফলে সামান্য লাভে বিক্রি করলেও ক্রেতাদের কাছে দাম বেশি মনে হচ্ছে। দাম বাড়ার কারণে বিক্রিও আগের তুলনায় কমে গেছে।
বিজ্ঞাপন
মালিবাগ হাজীপাড়ার বিক্রেতা সাইফুল ইসলাম বলেন, টানা বৃষ্টি ও বিভিন্ন এলাকা থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় পাইকারি বাজারে দাম বেড়েছে। সেই প্রভাব সরাসরি খুচরা বাজারেও পড়ছে।
বনশ্রীর বিক্রেতা আবদুল জলিল জানান, ক্রেতারা প্রতিদিন দাম নিয়ে অভিযোগ করলেও বিক্রি কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়ছেন। মানুষ কম পরিমাণে সবজি কিনছেন, ফলে বিক্রিও আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে।








