আবারও বাড়লো সিগারেটের দাম

দেশে নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রতি ১০ শলাকা নিম্নস্তরের সিগারেটের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৬২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬৫ টাকা ও তদূর্ধ্ব করার প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২০তম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর আওতায় নিম্নস্তরের সিগারেটের ন্যূনতম মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য সিগারেটের দাম নির্ধারণ এবং স্ট্যাম্প ও ব্যান্ডরোল ব্যবহার বিধিমালা সংক্রান্ত দুটি প্রজ্ঞাপন সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিম্নস্তরের সিগারেটের অবৈধ বাণিজ্য প্রতিরোধ এবং এ খাতে রাজস্ব ঘাটতি কমানোই এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে এই স্তরের সিগারেটের নির্ধারিত সর্বনিম্ন মূল্য আগের তুলনায় বাড়বে।
বিজ্ঞাপন
কোন স্তরে কত দাম
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রতি ১০ শলাকার সিগারেটের মূল্যস্তর অনুযায়ী দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল। এবার নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম আরও ৩ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সিগারেটের স্তর বাজেটে নির্ধারিত দাম নতুন দাম
বিজ্ঞাপন
নিম্নস্তর ৬২ টাকা ৬৫ টাকা ও তদূর্ধ্ব
মধ্যম স্তর ৯২ টাকা ৯২ টাকা ও তদূর্ধ্ব
উচ্চ স্তর ১৬০ টাকা ১৬০ টাকা ও তদূর্ধ্ব
বিজ্ঞাপন
অতি-উচ্চ/প্রিমিয়াম স্তর ২১০ টাকা ২১০ টাকা ও তদূর্ধ্ব
অর্থাৎ, ৭ সেপ্টেম্বরের সিদ্ধান্তে শুধু নিম্নস্তরের সিগারেটের মূল্যসীমা ৬২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬৫ টাকা করা হচ্ছে। মধ্যম, উচ্চ এবং অতি-উচ্চ বা প্রিমিয়াম স্তরের সিগারেটের দাম আগের মতোই থাকছে।
এর আগে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটে সব স্তরের সিগারেটের দাম ২ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। এর মধ্যে নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম ৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এবার সেই নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম আরও ৩ টাকা বাড়িয়ে ৬৫ টাকা ও তদূর্ধ্ব করার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সৌরবিদ্যুৎ যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্ক-কর রেয়াত
একই বৈঠকে নবায়নযোগ্য সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক-কর রেয়াত দেওয়ার প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।
প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকে ১৮০ দিন পর্যন্ত এসব পণ্য আমদানিতে ১ শতাংশের অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক, রেগুলেটরি ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক, ভ্যাট, আগাম কর ও অগ্রিম আয়কর থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে।
বিজ্ঞাপন
হংকংয়ের সঙ্গে বিনিয়োগ চুক্তি
এ ছাড়া বাংলাদেশ ও হংকংয়ের মধ্যে বিনিয়োগ সুরক্ষা ও সম্প্রসারণে একটি বিশেষ চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত চুক্তিটির মেয়াদ হবে ১০ বছর।
সরকারের আশা, এই চুক্তির মাধ্যমে হংকং থেকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়বে। পাশাপাশি দেশের শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন








