সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে আমানতের টাকা তুলছেন গ্রাহকরা

একীভূত পাঁচ ব্যাংক নিয়ে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানত ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টাকা ফেরতের আবেদন করা গ্রাহকদের মঙ্গলবার (৭ সেপ্টেম্বর) থেকে অর্থ দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
রাজধানীর ব্যাংকটির কয়েকটি শাখা ঘুরে দেখা গেছে, গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী নগদ অর্থ সরবরাহের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে কোনো গ্রাহকের জরুরি প্রয়োজন থাকলে পরিস্থিতি বিবেচনা করে নির্ধারিত সময়ের আগেও টাকা উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
নয়াপল্টন শাখায় টাকা তুলতে আসা শারমিন জাহান ৩ সেপ্টেম্বর আবেদন করেছিলেন। সন্তান অসুস্থ হওয়ায় তার জরুরি ভিত্তিতে ২০ হাজার টাকা প্রয়োজন ছিল। বিষয়টি শাখা ব্যবস্থাপককে জানানোর পর তাকে ওই অর্থ উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয়।
শারমিন জাহান বলেন, ‘আমি গত ৩ সেপ্টেম্বর টাকা তোলার জন্য আবেদন করেছি। নিয়ম অনুযায়ী, আরও দুই দিন পর আমার টাকা পাওয়ার কথা। কিন্তু আমার বাচ্চা অসুস্থ হওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে ২০ হাজার টাকা প্রয়োজন ছিল। বিষয়টি শাখা ব্যবস্থাপককে জানালে তিনি আমাকে ২০ হাজার টাকা তোলার অনুমতি দেন। ব্যাংকে এসেই জরুরি টাকাটা পেয়ে গেছি। এজন্য ভালো লেগেছে।’
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
অন্যদিকে ৩ সেপ্টেম্বর আবেদন করা আরেক গ্রাহক দিদারকে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে। তিনি জানান, এর আগে কয়েকবার টাকা তুলতে এসে তাকে ফিরে যেতে হয়েছিল।
বিজ্ঞাপন
দিদার বলেন, ‘যারা ১ সেপ্টেম্বর আবেদন করেছেন, আজ মূলত তারাই টাকা পাচ্ছেন। আমার আবেদন ৩ সেপ্টেম্বরের। তাই আরও দুই দিন অপেক্ষা করতে হবে। তবে আজ অন্য গ্রাহকদের টাকা তুলতে দেখে আশ্বস্ত হয়েছি। আশা করছি নির্ধারিত সময়েই আমার টাকাও পাবো।’
ব্যাংক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আমানত ফেরতের আগে গ্রাহকের ঋণসংক্রান্ত তথ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। একীভূত পাঁচ ব্যাংকের কোনো একটিতে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের খেলাপি ঋণ রয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের জন্য নির্দিষ্ট অ্যাপ ব্যবহার করা হচ্ছে।
এক কর্মকর্তা বলেন, ‘গ্রাহকের এনআইডি নম্বরের মাধ্যমে সিস্টেমে যাচাই করা হচ্ছে তার কোনো খেলাপি ঋণ আছে কি না। যদি কোনো গ্রাহক খেলাপি হন বা ঋণের তথ্য পাওয়া যায়, তাহলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। এরপর নিয়ম অনুযায়ী তার টাকা তোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।’
বিজ্ঞাপন
অন্য এক কর্মকর্তা জানান, কোনো গ্রাহকের খেলাপি ঋণ না থাকলে নিয়ম মেনেই তিনি টাকা তুলতে পারবেন। পুরো প্রক্রিয়াটি বাংলাদেশ ব্যাংক তদারকি করছে বলেও জানান তিনি।
গ্রাহকদের আতঙ্কিত না হয়ে ব্যাংকে আমানত রাখার আহ্বান জানিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, ব্যাংকটির দায়িত্ব এখন সরকার নিয়েছে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছে। ফলে আমানতকারীদের অর্থ নিয়ে উদ্বেগের কারণ নেই।
নয়াপল্টন শাখার ব্যবস্থাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী জানান, গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী অর্থের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তার ভাষ্য, টাকা উত্তোলনে বড় ধরনের সংকট হওয়ার কথা নয়।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, ‘আমরা সবসময় গ্রাহকদের সেবা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। গ্রাহকদের আবেদনের ভিত্তিতে আমরা অর্থের চাহিদা জানিয়েছি এবং সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকও সার্বক্ষণিক বিষয়টি তদারকি করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘১ সেপ্টেম্বর যারা আবেদন করেছেন, আজ তাদের টাকা দেওয়া হচ্ছে। ২ বা ৩ সেপ্টেম্বর যারা আবেদন করেছেন, তাদের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আরও এক-দুই দিন অপেক্ষা করতে হবে। তবে কারও পরিবারের সদস্য অসুস্থ হওয়া বা অন্য কোনো জরুরি প্রয়োজন থাকলে আমরা বিষয়টি বিবেচনা করে যতটা সম্ভব দ্রুত টাকা দেওয়ার চেষ্টা করছি।’
বিজয়নগর শাখার ব্যবস্থাপক চৌধুরী এস এম আতিকুর রহমান হায়দারও জানান, চাহিদা অনুযায়ী শাখায় অর্থের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বড় আমানতকারীরা চাইলে অর্থ ব্যাংকে রেখে দিতে পারবেন। প্রয়োজন হলে টাকা উত্তোলনের পাশাপাশি আরটিজিএসের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তরের ব্যবস্থাও রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
তবে অর্থ ছাড়ের আগে একীভূত পাঁচ ব্যাংকের কোনো একটিতে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের খেলাপি ঋণ আছে কি না, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। ১ সেপ্টেম্বর থেকে টাকা ফেরতের আবেদন নেওয়া শুরু হয়। ছয় দিনে ৭৫ হাজার গ্রাহক আবেদন করেছেন। তাদের চাহিদার বিপরীতে অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা।
৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকটির জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা ছাড় করে। আবেদন যাচাই শেষে সোমবার থেকেই অর্থ ফেরতের কথা থাকলেও বাস্তবে গ্রাহকদের টাকা দেওয়া শুরু হয়েছে মঙ্গলবার।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠিত হয়েছে এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক একীভূত করার মাধ্যমে।








