Logo

আন্দোলনে দণ্ড পাওয়া এনবিআরের ২০ কর্মকর্তার শাস্তি মওকুফ

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৫:৫০
আন্দোলনে দণ্ড পাওয়া এনবিআরের ২০ কর্মকর্তার শাস্তি মওকুফ
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিভাজন নিয়ে আন্দোলনের জেরে সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পর লঘুদণ্ড পাওয়া ২০ কর্মকর্তার শাস্তি বাতিল করেছে সরকার।

বিজ্ঞাপন

গত ২ সেপ্টেম্বর এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব আহসান হাবিবের সই করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রজ্ঞাপনগুলো প্রকাশ করা হয়েছে।

শাস্তি মওকুফ পাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন—উপকমিশনার মো. শাহাদাত জামিল, রাজস্ব কর্মকর্তা শফিউল বাশার, রাজস্ব কর্মকর্তা সবুজ মিয়া, উপকমিশনার মোহাম্মদ সাইদুল আলম, কমিশনার জাকির হোসেন, যুগ্ম কমিশনার মো. সানোয়ারুল কবির, অতিরিক্ত কমিশনার সাধন কুমার কুন্ডু, অতিরিক্ত কমিশনার আ আ ম আমীমুল ইহসান, অতিরিক্ত কমিশনার সিফাত-ই-মরিয়ম, অতিরিক্ত কমিশনার হাছান মুহাম্মদ তারেক রিকবদার, উপকর কমিশনার নো. জিল্লুর রহমান, উপকর কমিশনার ইমাম তৌহিদ হাসান শাকিল, অতিরিক্ত কর কমিশনার মির্জা আশিক রানা, যুগ্ম কর কমিশনার মোনালিসা শাহরীন সুস্মিতা, যুগ্ম কর কমিশনার মামুন মিয়া, অতিরিক্ত কর কমিশনার মিজ চাঁদ সুলতানা, অতিরিক্ত কর কমিশনার সুলতানা হাবীব, অতিরিক্ত কর কমিশনার মুরাদ আহমেদ, যুগ্ম কর কমিশনার মিজ মাসুমা খাতুন এবং যুগ্ম কর কমিশনার মোহাম্মদ মোরশেদ উদ্দীন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ২৪ জুন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এসব কর্মকর্তা রাজস্ব ভবনের প্রবেশপথে অবস্থান নেন। এর আগে ২২ জুন জারি হওয়া বদলির আদেশ তারা আইনসংগত কারণ ছাড়া ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সামনে প্রকাশ্যে ছিঁড়ে ফেলেন। এ ঘটনাকে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ হিসেবে উল্লেখ করে বদলি আদেশ অমান্যকারীকে সমর্থনের অভিযোগও আনা হয়।

সরকারি প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, এ ধরনের আচরণ চাকরির শৃঙ্খলার জন্য ক্ষতিকর, শিষ্টাচারবহির্ভূত এবং সরকারি আদেশ অমান্যের শামিল। এটি ‘সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা, ১৯৭৯’-এর ৩০৩ বিধির লঙ্ঘন এবং ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮’-এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ হিসেবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

বিজ্ঞাপন

বিভাগীয় মামলায় অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কারও বেতন কয়েক ধাপ কমানো হয়, আবার কারও বেতন কয়েক বছরের জন্য অবনমিত করা হয়েছিল।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, দণ্ডাদেশ মওকুফের জন্য কর্মকর্তারা যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে গত ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে রাষ্ট্রপতির কাছে আপিল করেন। তাদের আবেদন মঞ্জুর করে রাষ্ট্রপতি দণ্ডাদেশ বাতিলের আদেশ দেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে মূল বেতনে অবনমিতকরণ-সংক্রান্ত লঘুদণ্ড বাতিল করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিভাগীয় মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এর আগে গত ১৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত রাজস্ব সম্মেলনে এনবিআর কর্মকর্তারা তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহারের জন্য বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আবেদন করেন। তখন প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছিলেন।

যেভাবে শুরু হয়েছিল এনবিআরের আন্দোলন

২০২৫ সালে এনবিআরকে দুটি ভাগে বিভক্ত করে ‘রাজস্ব ব্যবস্থাপনা’ ও ‘রাজস্ব নীতি’ নামে পৃথক দুটি বিভাগ গঠনের বিষয়ে অধ্যাদেশ জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার। এর বিরোধিতায় অধ্যাদেশ বাতিলের দাবিতে কলমবিরতিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন শুরু করেন এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

বিজ্ঞাপন

ওই বছরের ২২ মে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অধ্যাদেশে ‘প্রয়োজনীয় সংশোধনী’ আনা হবে। সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত এনবিআরের কার্যক্রম আগের কাঠামোতেই পরিচালিত হবে বলেও জানানো হয়।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

এর মধ্যে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে তৎকালীন এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খানের পদত্যাগের দাবিতে নতুন করে আন্দোলনে নামেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। একপর্যায়ে সংস্থার কার্যালয়ে তাকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেন আন্দোলনকারীরা।

দাবি আদায়ে ২৮ জুন ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করেন তারা। এর ফলে আমদানি-রপ্তানিসহ এনবিআরের বিভিন্ন কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। পরদিনও কর্মসূচি অব্যাহত থাকায় অন্তর্বর্তী সরকার এনবিআরের সেবাকে ‘অত্যাবশ্যকীয়’ ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেয়।

পরে ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যস্থতায় আন্দোলনকারীদের প্ল্যাটফর্ম ‘এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ’ শাটডাউন কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেয়।

বিজ্ঞাপন

এরপর নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগেই এনবিআরের একের পর এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়। অনেক কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়, আবার কারও বিরুদ্ধে আরোপ করা হয় লঘুদণ্ড।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD