Logo

মোংলা বন্দরে বড় বিনিয়োগ, বদলে যাচ্ছে অর্থনীতির সম্ভাবনা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৭
মোংলা বন্দরে বড় বিনিয়োগ, বদলে যাচ্ছে অর্থনীতির সম্ভাবনা
মোংলা বন্দর । ফাইল ছবি

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলাকে ঘিরে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হচ্ছে। বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন, নৌপথের নাব্যতা উন্নয়ন এবং সড়ক, রেল ও আকাশপথের সমন্বিত যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শিল্প ও বাণিজ্যে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে চীনের এক্সিম ব্যাংকের প্রায় চার হাজার কোটি টাকার ঋণচুক্তি এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মোংলা বন্দর পরিদর্শন।

বিজ্ঞাপন

গত ২২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুন্দরবন ও মোংলা বন্দর পরিদর্শন করেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি ছিল তাঁর প্রথম খুলনা সফর। সফরকালে তিনি বন্দরের ৯ নম্বর জেটি এবং প্রস্তাবিত বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘুরে দেখেন। বন্দরের অবকাঠামো, জাহাজ চলাচলের সুবিধা, নাব্যতা এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ পরিকল্পনা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, পরিকল্পিত উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে মোংলা বন্দর দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করতে পারবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যে প্রথম গন্তব্য বন্দর বা ‘ফার্স্ট কলিং পোর্ট’ হিসেবে এর গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে।

চার হাজার কোটি টাকার ঋণে আধুনিকায়নের পরিকল্পনা

বিজ্ঞাপন

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ অক্টোবর চীনের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে ৩৩৫ দশমিক ৭৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় চার হাজার কোটি টাকা।

এই অর্থায়নের মাধ্যমে বন্দরের কনটেইনার ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়ানো, পণ্য ওঠানামার কার্যক্রম আধুনিক করা এবং ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর পরিচালনাব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পণ্য খালাস ও পরিবহনের কার্যক্রম আরও গতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বন্দর উন্নয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে পশুর চ্যানেলের নাব্যতা বৃদ্ধি। বর্তমানে পর্যাপ্ত গভীরতার সীমাবদ্ধতায় বেশি ড্রাফটের বড় জাহাজ সরাসরি জেটিতে ভেড়ানোর ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। নিয়মিত ও পরিকল্পিত ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে এই সমস্যা কাটিয়ে ওঠার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

নাব্যতা বাড়ানো সম্ভব হলে অপেক্ষাকৃত বড় পণ্যবাহী জাহাজ বন্দরে প্রবেশ করতে পারবে। এতে পণ্য পরিবহনের ব্যয় ও সময় কমানোর পাশাপাশি বন্দরের সামগ্রিক কার্যক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হওয়ার সুযোগ

আন্তর্জাতিক সমুদ্রবাণিজ্যে কোনো বন্দরের গুরুত্ব নির্ধারণে জাহাজ চলাচলের সুবিধা, পণ্য খালাসের গতি, পরিবহন ব্যয় এবং অন্যান্য দেশের সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিজ্ঞাপন

মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন সম্পন্ন হলে বিদেশি জাহাজের সরাসরি আগমন বাড়তে পারে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করার সুযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মতে, মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে তৈরি পোশাক, পাটজাত পণ্য, চামড়া এবং হিমায়িত চিংড়িসহ বিভিন্ন রপ্তানিপণ্যের পরিবহনব্যবস্থা উন্নত হবে। এতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উৎপাদনমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো বিশেষভাবে উপকৃত হতে পারে।

পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে মোংলা বন্দরের আকর্ষণ বাড়বে। তবে বন্দরের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান নিশ্চিত করতে অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি দক্ষ ব্যবস্থাপনা, দ্রুত শুল্ক ছাড়করণ এবং নিরবচ্ছিন্ন পরিবহন সুবিধা নিশ্চিত করাও প্রয়োজন।

বিজ্ঞাপন

চার লেন সড়ক ও কনটেইনার ট্রেনে বাড়বে যোগাযোগ সুবিধা

মোংলা বন্দরের সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে সমন্বিত যোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে খুলনা-মোংলা সড়ক চার লেনে উন্নীত করা এবং খুলনা-ভাঙ্গা সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

সড়ক যোগাযোগ উন্নত হলে বন্দর থেকে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পণ্য পরিবহন সহজ হবে। বিশেষ করে পদ্মা সেতুর মাধ্যমে রাজধানী ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ সুবিধাকে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

বিজ্ঞাপন

একই সঙ্গে মোংলা বন্দরের সঙ্গে রেলপথে পণ্য পরিবহনের সুযোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। ওয়াগন ও কনটেইনারবাহী ট্রেন চালু হলে বিপুল পরিমাণ পণ্য তুলনামূলক সাশ্রয়ী ব্যয়ে পরিবহন করা সম্ভব হতে পারে।

সড়ক ও রেলপথের সমন্বিত ব্যবহার বন্দরের ওপর নির্ভরশীল শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর পরিবহন ব্যয় কমাতে সহায়ক হবে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।

খান জাহান আলী বিমানবন্দর চালু নিয়েও নতুন প্রত্যাশা

বিজ্ঞাপন

মোংলা বন্দরকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের আলোচনায় দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত খান জাহান আলী বিমানবন্দর চালুর বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী, বিদেশি বিনিয়োগকারী, জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং শিল্প উদ্যোক্তাদের দ্রুত যাতায়াতের সুবিধা নিশ্চিত করতে বিমান যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিমানবন্দরটি চালু হলে মোংলা বন্দর, খুলনা ও বাগেরহাটের শিল্পাঞ্চলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের যাতায়াত সহজ হতে পারে। পাশাপাশি নতুন শিল্পকারখানা স্থাপন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘিরে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা

মোংলা বন্দরসংলগ্ন প্রস্তাবিত বেজা অর্থনৈতিক অঞ্চলকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শিল্পায়নের গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অর্থনৈতিক অঞ্চলটি গড়ে উঠলে দেশি-বিদেশি শিল্পগোষ্ঠীর বিনিয়োগ আকর্ষণের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বন্দরের কাছাকাছি শিল্পকারখানা স্থাপিত হলে কাঁচামাল আমদানি এবং উৎপাদিত পণ্য রপ্তানিতে পরিবহন সুবিধা পাওয়া যাবে।

বিজ্ঞাপন

এর ফলে উৎপাদন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। বন্দরকেন্দ্রিক শিল্পায়নের সঙ্গে পরিবহন, গুদামজাতকরণ, সরবরাহব্যবস্থা, আবাসন ও অন্যান্য সেবা খাতের সম্প্রসারণ ঘটতে পারে।

এ ছাড়া এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের সম্ভাবনাও স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলে গুরুত্ব পাচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, জ্বালানি অবকাঠামো ও শিল্পাঞ্চলের উন্নয়ন একসঙ্গে এগোলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বৃহৎ বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরে উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি আসার আশা

বিজ্ঞাপন

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক মো. সালাহ্ উদ্দিন কবির জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বন্দর পরিদর্শনকালে সক্ষমতা বৃদ্ধি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় নাব্যতা নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

বন্দর পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাবিত বেজা অর্থনৈতিক অঞ্চলও ঘুরে দেখেন।

বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, চ্যানেলে প্রয়োজনীয় ড্রেজিং সম্পন্ন হলে বেশি ড্রাফটের জাহাজ ভেড়ানোর সুবিধা বাড়বে। এতে বন্দরের কার্যক্রম সম্প্রসারণের পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সমস্যাগুলোর সমাধান এবং উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন দ্রুততর হওয়ার আশা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বন্দরসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ ব্যবসায়ী নেতাদের

মোংলা বন্দর বার্থ ও শিপ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. জুলফিকর আলী মনে করেন, মোংলা বন্দরের বিদ্যমান সম্ভাবনাকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে।

তাঁর মতে, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক সফর বন্দর উন্নয়নের উদ্যোগগুলো এগিয়ে নিতে সহায়ক হতে পারে। নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং এলএনজি টার্মিনাল নির্মিত হলে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য আরও সম্প্রসারিত হবে। এর সুফল দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও পড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে বাগেরহাট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি শেখ সাহেদ আলী রবি চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর চাপ কমাতে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

তিনি মনে করেন, শুধু ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্যতা বাড়ালেই হবে না, মোংলা কাস্টমস হাউস ও শুল্ক বিভাগের কার্যক্রমও আধুনিক করতে হবে। দ্রুত পণ্য ছাড়করণ এবং কার্যকর বন্দর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে ব্যবসায়ীরা আরও বেশি সুবিধা পাবেন।

প্রধানমন্ত্রীর সফরের পর এসব গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া গতিশীল হবে বলে তাঁর প্রত্যাশা।

উপকূলীয় মানুষের বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ

বন্দর ও শিল্পাঞ্চলের উন্নয়ন শুধু ব্যবসা-বাণিজ্যেই নয়, উপকূলীয় মানুষের জীবন-জীবিকাতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরের ফলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিনিয়োগ কার্যক্রমে গতি আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

তাঁর মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলের অনেক মানুষ জীবিকা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন। নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান, বন্দরকেন্দ্রিক ব্যবসা এবং অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পগুলো তাঁদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতি, যোগাযোগ অবকাঠামো এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করছে মোংলার ভবিষ্যৎ

মোংলা বন্দরের সামনে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হচ্ছে পরিকল্পিত প্রকল্পগুলো সময়মতো বাস্তবায়ন এবং দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দূর করা।

নিয়মিত ড্রেজিং, আধুনিক কনটেইনার ব্যবস্থাপনা, দ্রুত শুল্ক কার্যক্রম, উন্নত সড়ক ও রেল যোগাযোগ এবং বিনিয়োগবান্ধব শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা সম্ভব হলে বন্দরটির বাণিজ্যিক গুরুত্ব বহুগুণ বাড়তে পারে।

তবে সুন্দরবনসংলগ্ন সংবেদনশীল পরিবেশের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করাও জরুরি। অর্থনৈতিক অগ্রগতির পাশাপাশি পরিবেশগত সুরক্ষা নিশ্চিত করা গেলে বন্দরের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন আরও টেকসই হবে।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সরকারি উদ্যোগ, বিদেশি অর্থায়ন এবং বেসরকারি বিনিয়োগের সমন্বয়ে মোংলা বন্দর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। এর মাধ্যমে খুলনা, বাগেরহাটসহ পুরো দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে শিল্পায়ন, ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা আরও শক্তিশালী হবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD