বাজারে হাজির শীতের আগাম সবজি, তবু মিলছে না ১০০ টাকায়

হেমন্তের শুরুতেই রাজধানীর বাজারে আসতে শুরু করেছে শীতকালীন আগাম সবজি। তবে নতুন সবজির আগমনেও পুরোপুরি স্বস্তি ফিরছে না ক্রেতাদের মধ্যে। টমেটো, শিম, গাজর, বেগুন ও দেশি শসার মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজি কিনতে কেজিপ্রতি গুনতে হচ্ছে ১০০ টাকার বেশি। যদিও সরবরাহ বাড়ায় কিছু সবজির দাম আগের তুলনায় কমেছে, তবু বাজার খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর গুলশান, কালাচাঁদপুর, কুড়িল-সংলগ্ন কাঁচাবাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শীতের আগাম সবজি বাজারে আসতে শুরু করলেও বেশ কয়েকটি পণ্যের দাম এখনো চড়া।
বাজারে প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা দরে। শিমের দাম ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, গাজর ১৪০ টাকা এবং গোল বেগুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা। এ ছাড়া দেশি শসার কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকায়। ফলে প্রতিদিনের রান্না ও সালাদের জন্য প্রয়োজনীয় এসব সবজি কিনতে বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে পরিবারগুলোকে।
অন্যদিকে, সরবরাহ বাড়ায় কয়েক ধরনের সবজির দাম কেজিপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। বর্তমানে করলা ৮০ টাকা, কাঁকরোল ৭০ থেকে ৮০ টাকা, ধুন্দল ৮০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৬০ টাকা এবং চিচিঙ্গা ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। হাইব্রিড শসার দাম ৭০ থেকে ৮০ টাকা। একই দরে পাওয়া যাচ্ছে কচুর মুখিও।
বিজ্ঞাপন
কুড়িল-সংলগ্ন কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতা আতিক হোসেন বলেন, মৌসুমের শুরুতে নতুন সবজির দাম সাধারণত বেশি থাকে। এ সময় বাজারে সরবরাহও তুলনামূলক কম। তবে নতুন সবজি এলে দাম ধীরে ধীরে কমতে পারে।
জোয়ার সাহারা বাজারের বিক্রেতা সজিব হোসেন জানান, বাজারে সবজির সরবরাহ বাড়ায় দাম কিছুটা কমেছে। এতে ক্রেতার সংখ্যাও বেড়েছে। তাঁর ভাষ্য, আগে পাইকারি বাজার থেকেই বেশির ভাগ সবজি বেশি দামে কিনতে হতো। ফলে খুচরা বাজারেও সেগুলো ১০০ টাকার বেশি দামে বিক্রি করতে হয়েছে। তবে শীতের আগাম সবজি আসতে থাকায় বেশ কিছু পণ্যের দাম এখন ৭০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে নেমে এসেছে।
তারপরও বেগুন, শিম ও টমেটোর মতো সবজির উচ্চমূল্য নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে ক্রেতাদের মধ্যে। কালাচাঁদপুরে বাজার করতে আসা মারুফ আল-আমিন বলেন, শীতকালীন সবজি বাজারে আসতে শুরু করায় আগের তুলনায় কিছু পণ্যের দাম কমেছে। তবে এখনো কয়েক ধরনের সবজি কিনতে ১০০ টাকার বেশি খরচ করতে হচ্ছে। প্রতিদিনের রান্নায় টমেটো প্রয়োজন হলেও বাড়তি দামের কারণে তা কেনা কঠিন হয়ে পড়ছে। একইভাবে শসা ও গাজর কেনার ক্ষেত্রেও হিসাব করে চলতে হচ্ছে তাঁকে।
বিজ্ঞাপন
একই বাজারের ক্রেতা শিউলি আক্তার বলেন, সবজির দাম ১০ থেকে ২০ টাকা কমলেও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য তা যথেষ্ট নয়। শিমের কেজি এখনো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা এবং টমেটোর দাম ১৫০ টাকা পর্যন্ত। এ ছাড়া শসা ও গাজরের দাম ১০০ টাকার ওপরে থাকায় এসব পণ্য কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই সংসারের খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে তুলনামূলক কম দামের সবজি কিনেই প্রয়োজন মেটাতে হচ্ছে।
বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধারণা, শীতকালীন সবজির সরবরাহ আরও বাড়লে আগামী দিনগুলোতে দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আপাতত বেশ কয়েকটি প্রয়োজনীয় সবজির উচ্চমূল্য সাধারণ ক্রেতাদের বাজেটে বাড়তি চাপ তৈরি করছে।








