দেশজুড়ে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতকে আরও শক্তিশালী ও জনবান্ধব করতে বড় উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সারাদেশে পর্যায়ক্রমে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী (হেলথ কেয়ারার) নিয়োগ দেওয়া হবে, যার বড় অংশই নারী হবেন।
বিজ্ঞাপন
বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। দিবসটি ৭ এপ্রিল উদ্যাপনকে সামনে রেখে সোমবার (৬ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ওই বার্তায় স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি সুস্থ ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে মানুষের পাশাপাশি পশুপাখি ও পরিবেশের সুরক্ষাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই তিনটির পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে ‘ওয়ান হেলথ’ ধারণাকে সামনে এনে সমন্বিত গবেষণা ও টেকসই প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন তিনি। এ লক্ষ্যে চিকিৎসাবিজ্ঞান, কৃষি, প্রাণিসম্পদ ও পরিবেশবিজ্ঞানকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে স্বাস্থ্যসেবায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সহজলভ্য ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তির বিকল্প নেই। রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় ভার্চুয়াল রিয়েলিটি, অগমেন্টেড রিয়েলিটি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মেশিন লার্নিংয়ের মতো প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম’। এই নীতিকে সামনে রেখে সরকার ‘সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা’ নিশ্চিত করতে কাজ করছে বলেও জানান তিনি। তার মতে, স্বাস্থ্যসেবা কোনো বিলাসিতা নয়, বরং এটি মানুষের মৌলিক অধিকার।
স্বাস্থ্যখাতে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তিনি জানান, শহর ও গ্রামে সমানভাবে মানসম্পন্ন চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণ, মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা জোরদার, রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিটি নাগরিকের জন্য ই-হেলথ কার্ড প্রবর্তন, জটিল রোগের চিকিৎসায় পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) চালু, স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থা ধীরে ধীরে সম্প্রসারণ এবং চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাতে সেবার মান উন্নয়ন ও ব্যয় সহনীয় রাখতে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম চালানো হবে। পাশাপাশি, সেবাগ্রহীতা ও সেবাদাতাদের জন্য ন্যায়সঙ্গত আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নে পর্যায়ক্রমে দেশের জিডিপির ৫ শতাংশ স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।
বার্তার শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টা, সততা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে একটি সুস্থ ও শক্তিশালী জাতি গঠন সম্ভব। তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে সবাইকে শুভেচ্ছা জানান এবং সংশ্লিষ্ট সকল কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন।







