Logo

হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৩৫

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ জুন, ২০২৬, ২১:২৫
হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৩৫
ছবি: সংগৃহীত

দেশে হামের প্রকোপ এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যুর খবর জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৩৫ শিশু। নতুন করে বিপুলসংখ্যক শিশু আক্রান্ত হওয়ায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে প্রকাশিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেশের সাম্প্রতিক হাম পরিস্থিতির এই চিত্র তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি। মৃত্যুর ঘটনাগুলো হামের উপসর্গযুক্ত রোগীদের মধ্যে ঘটেছে, যার চূড়ান্ত কারণ নির্ধারণে প্রয়োজনীয় পর্যালোচনা অব্যাহত রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৫৯৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছে আরও ৯৩ শিশু। ফলে এই সময়ের মধ্যে হাম ও হাম-সদৃশ উপসর্গজনিত কারণে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৮৬ জনে।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ১২৬ শিশু নতুন করে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে। অন্যদিকে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে আরও ১ হাজার ৯ শিশু। সব মিলিয়ে একদিনে আক্রান্ত ও উপসর্গযুক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৩৫ জনে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, আক্রান্তদের মধ্যে অনেককেই হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৯৭৩ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে ৯৮৬ শিশু হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সার্বিক পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৯৪ হাজার ৭৬৪ জনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ১১ হাজার ২৯৭ জন।

এ সময়কালে হাম ও হাম-সদৃশ উপসর্গ নিয়ে মোট ৭৮ হাজার ৭১৬ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ৭৪ হাজার ৯৭১ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। এখনও বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা চলছে।

বিজ্ঞাপন

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। সময়মতো টিকাদান, আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখা এবং দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে রোগটির বিস্তার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে টিকার পূর্ণ ডোজ গ্রহণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অভিভাবকদের প্রতি শিশুদের স্বাস্থ্যগত পরিবর্তনের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। জ্বর, শরীরে লালচে দানা, কাশি, চোখ লাল হওয়া বা অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ক্রমবর্ধমান আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বিবেচনায় স্বাস্থ্য বিভাগ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD