বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী ডেনমার্ক

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছে ডেনমার্ক। দুই দেশের অভিন্ন অগ্রাধিকার এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার ও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকার ডেনমার্ক দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বৈঠকে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, ই-হেলথ সিস্টেমের উন্নয়ন এবং দুই দেশের পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের জন্য কার্যকর ও দক্ষ ই-হেলথ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা তুলে ধরেন। এ ক্ষেত্রে ডেনমার্কের ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আগ্রহের কথাও জানান তিনি।
রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশ-ডেনমার্ক সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য তিনটি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রের কথা তুলে ধরেন। এগুলো হলো ডায়াবেটিসের চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনা উন্নত করা, নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পুনর্বাসন সেবা জোরদার এবং জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা।
বিজ্ঞাপন
বিশেষ করে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) মোকাবিলায় সহযোগিতার সুযোগ নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। ওষুধের কার্যকারিতা কমে যাওয়ার এই বৈশ্বিক ঝুঁকি মোকাবিলায় খাদ্য নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে নিরাপদ পানি সরবরাহ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় নিরাপদ পানীয় জল নিশ্চিত করতে ডেনমার্ক দীর্ঘদিন ধরে সহযোগিতা করে আসছে।
উপকূলীয় অঞ্চলে বাড়তে থাকা লবণাক্ততার প্রভাব, বিশেষ করে নারীদের স্বাস্থ্যের ওপর এর সম্ভাব্য ক্ষতি কমাতেও এই সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে বলে দূতাবাস জানিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এ ছাড়া ঢাকার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার সম্প্রসারণ প্রকল্পেও ডেনমার্ক অর্থায়নে অংশ নিচ্ছে। প্রকল্পটিতে দেশটির ৩০০ মিলিয়ন ইউরো অর্থায়নের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকার প্রায় ৭০ থেকে ৯০ লাখ মানুষের নিরাপদ পানি সরবরাহে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বৈঠকের শেষ দিকে স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতার নির্দিষ্ট ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করে পরবর্তী কার্যক্রম সমন্বয়ের বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হয়।
বাংলাদেশ ও ডেনমার্কের অংশীদারত্বের ভিত্তিতে স্বাস্থ্যকর, নিরাপদ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে সক্ষম জনগোষ্ঠী গড়ে তুলতে বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ নিয়ে কাজ করার প্রত্যয়ও পুনর্ব্যক্ত করেন তারা।








