জিমেইলে এআই যুক্ত করলো গুগল, ইমেইল ব্যবহারে আসছে বড় পরিবর্তন

ইমেইল ব্যবহারের অভিজ্ঞতায় নতুন মাত্রা যোগ করতে জিমেইলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুক্ত করেছে গুগল। ‘জেমিনি’ নামের এই এআই সহকারীর মাধ্যমে এখন ইমেইল খোঁজা, করণীয় কাজ চিহ্নিত করা এবং দ্রুত উত্তর লেখার মতো কাজ আরও সহজ করে তুলতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। তবে আধুনিক এই সুবিধার পাশাপাশি ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
গুগল জানিয়েছে, ধাপে ধাপে জিমেইলে এআইভিত্তিক ফিচার যুক্ত করা হচ্ছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকেই বিভিন্ন দেশে পরীক্ষামূলকভাবে এসব সুবিধার রোলআউট শুরু হয়েছে। মূল উদ্দেশ্য হলো— ক্রমেই বড় হয়ে ওঠা ইনবক্স সামলানো সহজ করা এবং ইমেইল ব্যবহারে সময় ও শ্রম কমিয়ে আনা।
এই নতুন ফিচারগুলোর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে জেনারেটিভ এআই প্রযুক্তি। মানুষের ভাষা বোঝা ও বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা থাকা এই প্রযুক্তির মাধ্যমে জেমিনি ব্যবহারকারীর ইমেইল পড়তে ও প্রাসঙ্গিক তথ্য বের করতে পারবে। ফলে ইনবক্সে থাকা শত শত মেইলের ভিড় থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে পাওয়া হবে আগের চেয়ে অনেক দ্রুত।
বিজ্ঞাপন
নতুন ব্যবস্থায় ব্যবহারকারী প্রশ্নের আকারে ইমেইল সার্চ করতে পারবেন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কেউ যদি লেখেন— “গত মাসে চাকরি নিয়ে যার সঙ্গে কথা হয়েছিল, তার নাম কী?” তাহলে জেমিনি সময়, প্রসঙ্গ এবং কথোপকথনের ধরন বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট ইমেইলটি খুঁজে বের করার চেষ্টা করবে। সাধারণ কিওয়ার্ড সার্চের তুলনায় এই পদ্ধতি অনেক বেশি স্মার্ট ও কার্যকর বলে দাবি গুগলের।
এ ছাড়া গুগল একটি নতুন ধরনের ইনবক্স চালুর পরিকল্পনাও করছে, যা বর্তমানে পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। এই ইনবক্স ইমেইলের ভেতরে থাকা করণীয় কাজগুলো শনাক্ত করবে এবং সেগুলো থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি টু-ডু লিস্ট তৈরি করবে। ফলে আলাদা করে নোট নেওয়া বা অন্য অ্যাপে কাজের তালিকা লেখার প্রয়োজন কমে আসবে। গুগলের আশা, বছরের শেষ দিকে এই সুবিধা সবার জন্য উন্মুক্ত করা যাবে।
ইমেইল লেখার ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন আসছে। নতুন এআই টুলে থাকছে স্বয়ংক্রিয় প্রুফরিডিং সুবিধা, যা বানান ও ভাষাগত ভুল ধরিয়ে দেবে। পাশাপাশি প্রাসঙ্গিক উত্তর সাজেস্ট করার অপশনও থাকবে। ব্যবহারকারী চাইলে সেই উত্তর হুবহু পাঠাতে পারবেন অথবা নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী সম্পাদনা করে নিতে পারবেন।
বিজ্ঞাপন
গুগল জানিয়েছে, এসব ফিচারের কিছু অংশ বিনামূল্যে ব্যবহার করা যাবে। তবে আরও উন্নত ও শক্তিশালী সুবিধা পেতে সাবস্ক্রিপশন নিতে হবে। কোন কোন ফিচার ফ্রি থাকবে আর কোনগুলো পেইড হবে— সে বিষয়ে ধাপে ধাপে বিস্তারিত জানানো হবে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন ইমেইল ব্যবহারের অভ্যাসে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এত দিন ব্যবহারকারীদের বারবার ইনবক্স খুলে গুরুত্বপূর্ণ মেইল খুঁজে বের করতে হতো। এখন পুরো ইনবক্সের একটি সারসংক্ষেপ পাওয়া সম্ভব হবে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ কাজ দ্রুত চোখে পড়বে এবং অপ্রয়োজনীয় মেইল এড়িয়ে চলা সহজ হবে।
বিজ্ঞাপন
তবে এআই ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। এসব সুবিধা দিতে হলে জেমিনিকে ব্যবহারকারীর ইনবক্সে প্রবেশাধিকার দিতে হবে, যা ব্যক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণের প্রশ্ন তুলে দেয়। গুগলের দাবি, এআই ইমেইল বিশ্লেষণ করলেও কোনো মানব কর্মী ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত মেইল পড়েন না। পাশাপাশি তথ্য সুরক্ষায় আলাদা নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
তবু গোপনীয়তা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাদের মতে, এত বড় পরিসরে ব্যক্তিগত যোগাযোগ বিশ্লেষণ করা হলে ভবিষ্যতে নতুন ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এদিকে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রযুক্তি প্রতিবেদক ব্রায়ান এক্স চেন এক সপ্তাহ ধরে এআই-যুক্ত জিমেইল ব্যবহার করে দেখেছেন। তার অভিজ্ঞতায়, স্বয়ংক্রিয় করণীয় তালিকা তৈরির ফিচারটি বেশ কার্যকর। তবে ইমেইল লেখার গতি বাড়ানোর টুলগুলো এখনো পুরোপুরি সন্তোষজনক নয় বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।
বিজ্ঞাপন
সব মিলিয়ে, জিমেইলে এআই যুক্ত হওয়ায় ইমেইল ব্যবহারে নতুন দিগন্তের সূচনা হলেও গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার বিষয়টি ব্যবহারকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকছে।








