ইন্ডাকশন না ইনফ্রারেড—কোন বৈদ্যুতিক চুলা আপনার জন্য উপযুক্ত?

গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়া, রান্নাঘরের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং পরিবেশ সংরক্ষণের চিন্তা থেকে এখন অনেক পরিবারই বৈদ্যুতিক চুলার দিকে ঝুঁকছে। এই বাজারে সবচেয়ে আলোচিত দুটি বিকল্প হলো ইন্ডাকশন ও ইনফ্রারেড কুকটপ। দেখতে প্রায় একই হলেও প্রযুক্তি, বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে এদের মধ্যে রয়েছে স্পষ্ট পার্থক্য। তাই চুলা কেনার আগে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়াই বুদ্ধিমানের।
বিজ্ঞাপন
ইন্ডাকশন চুলা
ইন্ডাকশন চুলা চুম্বকনির্ভর প্রযুক্তিতে কাজ করে। এতে কেবল নির্দিষ্ট ধরনের ধাতব পাত্রের তলদেশে সরাসরি তাপ উৎপন্ন হয়। ফলে রান্না হয় দ্রুত এবং বিদ্যুতের অপচয় কম।
বিজ্ঞাপন
সুবিধা:
দ্রুত রান্না
কম বিদ্যুৎ খরচ
বিজ্ঞাপন
তুলনামূলক বেশি নিরাপদ
সীমাবদ্ধতা:
সব ধরনের হাঁড়ি-পাতিল ব্যবহার করা যায় না
বিজ্ঞাপন
বিদ্যুৎ বন্ধ হলে রান্না থেমে যায়
ইনফ্রারেড চুলা
ইনফ্রারেড চুলা হিটিং এলিমেন্টের মাধ্যমে তাপ উৎপন্ন করে, যা ধীরে ধীরে পাত্রে ছড়িয়ে পড়ে। রান্নার ধরন অনেকটা গ্যাস চুলার মতো।
বিজ্ঞাপন
সুবিধা:
প্রায় সব ধরনের হাঁড়ি-পাতিল ব্যবহার করা যায়
বিদ্যুতের ওঠানামার মধ্যেও স্থিরভাবে কাজ করে
বিজ্ঞাপন
সীমাবদ্ধতা:
ইন্ডাকশনের তুলনায় বিদ্যুৎ খরচ বেশি
রান্নাঘর গরম হয়
বিজ্ঞাপন
চুলার কাচের অংশ খুব গরম হয়ে যায়
শক্তি ও সময়ের তুলনা:
বিজ্ঞাপন
ইন্ডাকশন চুলায় বিদ্যুতের ৮৫-৯০% ব্যবহার হয় রান্নায়, আর ইনফ্রারেডে ৬৫-৭০%। ইন্ডাকশন চুলায় তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ সহজ এবং মুহূর্তেই তাপ ওঠা-নামা করা যায়। ইনফ্রারেড চুলা ধীরে গরম হয় এবং তাপ নিয়ন্ত্রণ তুলনামূলক কঠিন।
নিরাপত্তা:
ইন্ডাকশন চুলা তুলনামূলক নিরাপদ। পাত্র না থাকলে তাপ উৎপন্ন হয় না, কাচের অংশ কম গরম থাকে। ইনফ্রারেডে কাচের অংশ বেশি গরম হওয়ায় পোড়া ঝুঁকি থাকে।
বিজ্ঞাপন
যদি দ্রুত রান্না, কম বিদ্যুৎ খরচ এবং নিরাপত্তা প্রাধান্য পায়, ইন্ডাকশন চুলা ভালো বিকল্প। আর যদি আগের হাঁড়ি-পাতিল ব্যবহার করতে চান এবং গ্যাস চুলার অভিজ্ঞতা পছন্দ করেন, ইনফ্রারেড চুলা সুবিধাজনক হতে পারে।








