মহাকাশের আশ্চর্য ক্ষমতা নিয়ে ফিরল জীবাণু

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস) থেকে পৃথিবীতে ফিরেছে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়াসমৃদ্ধ একটি গবেষণা বাক্স। বিজ্ঞানীদের মতে, মহাকাশের বিশেষ পরিবেশে থাকা অবস্থায় এসব অণুজীব এমন বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছে, যা ভবিষ্যতে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী সংক্রমণের চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন–ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয় ও বায়োটেক প্রতিষ্ঠান রোডিয়াম সায়েন্টিফিকের গবেষকেরা এই পরীক্ষায় ব্যবহার করেন ই. কোলাই ব্যাকটেরিয়া এবং তাদের স্বাভাবিক শত্রু টি–৭ ব্যাকটেরিওফেজ ভাইরাস। পৃথিবীতে এই দুই অণুজীবের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই এক ধরনের বিবর্তনমূলক প্রতিযোগিতা চললেও, মাইক্রোগ্র্যাভিটি বা শূন্য মাধ্যাকর্ষণের পরিবেশে তাদের আচরণ কেমন হয়—তা আগে কখনো বিশ্লেষণ করা হয়নি। সেই লক্ষ্যেই ২০২০ সালে শুরু হয় এ গবেষণা।
পরীক্ষার অংশ হিসেবে আইএসএসে টানা ২৫ দিন বিভিন্ন পরিবেশে ব্যাকটেরিয়া ও ফেজ ভাইরাসকে ইনকিউবেশনে রাখা হয়। একই সময়ে পৃথিবীতেও সমান্তরালভাবে একই পরীক্ষা চালানো হয়, যাতে মহাকাশ ও পৃথিবীর পরিবেশগত পার্থক্যের প্রভাব তুলনা করা যায়।
বিজ্ঞাপন
গবেষণায় দেখা গেছে, মহাকাশে ব্যাকটেরিয়া ও ফেজ ভাইরাসের পারস্পরিক সম্পর্কের ধরন স্পষ্টভাবে বদলে যায়। সংক্রমণের গতি কমে আসে এবং তাদের বিবর্তনের পথ পৃথিবীর তুলনায় ভিন্ন রূপ নেয়।
মাইক্রোগ্র্যাভিটির প্রভাবে ব্যাকটেরিয়ার স্ট্রেস মোকাবিলা, পুষ্টি গ্রহণ এবং কোষের পৃষ্ঠ-সম্পর্কিত বিভিন্ন জিনে পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। একই সঙ্গে তাদের পৃষ্ঠের প্রোটিনেও রূপান্তর ঘটে। শুরুতে ফেজ ভাইরাসের সংক্রমণ ক্ষমতা কিছুটা কমে গেলেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারাও নতুনভাবে অভিযোজিত হয়ে ব্যাকটেরিয়ার গায়ে আটকে সংক্রমণ চালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
গবেষকদের মতে, সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক দিক হলো—মহাকাশে বিবর্তিত কিছু ফেজ ভাইরাস পৃথিবীতে ফিরে এসে মূত্রনালির সংক্রমণ বা ইউটিআই সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসে বিশেষ কার্যকারিতা দেখিয়েছে। বর্তমানে ইউটিআইয়ের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়ার ৯০ শতাংশের বেশি অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে পড়েছে। এই বাস্তবতায় বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি হিসেবে ফেজ থেরাপির গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে।
বিজ্ঞাপন
গবেষকরা বলছেন, মহাকাশে সৃষ্ট এই জৈবিক অভিযোজন বিশ্লেষণের মাধ্যমে এমন ফেজ শনাক্ত ও উন্নত করা সম্ভব হচ্ছে, যা পৃথিবীতে ওষুধ-প্রতিরোধী জীবাণুর বিরুদ্ধে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে।
এই গবেষণার ফলাফল আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী পিএলওএস বায়োলজি-তে প্রকাশিত হয়েছে।








