Logo

মহাকাশে উৎপাদিত বিদ্যুৎ আসবে পৃথিবীতে

profile picture
জনবাণী ডেস্ক
২১ মে, ২০২৬, ১৯:৩১
মহাকাশে উৎপাদিত বিদ্যুৎ আসবে পৃথিবীতে
ছবি: সংগৃহীত

মহাকাশে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করে সেখান থেকে পৃথিবী ও স্যাটেলাইটে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রযুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির দাবি করেছে চীন। দেশটির বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, তারবিহীনভাবে চলমান লক্ষ্যবস্তুতে বিদ্যুৎ পাঠানোর পরীক্ষায় ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে, যা ভবিষ্যতের মহাকাশভিত্তিক জ্বালানি ব্যবস্থার জন্য বড় সম্ভাবনা তৈরি করছে।

বিজ্ঞাপন

চীনের সিতিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ‘সান চেজিং’ বা ‘জুরি’ নামের একটি প্রকল্পের আওতায় নতুন ধরনের তারবিহীন বিদ্যুৎ পরিবহন ব্যবস্থা তৈরি করেছেন। এই প্রযুক্তির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, একই সময়ে একাধিক চলমান লক্ষ্যবস্তুতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে।

গবেষকদের সাম্প্রতিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, প্রায় ১০০ মিটার দূরত্বে কোনো ধরনের তার ছাড়াই সফলভাবে বিদ্যুৎ পাঠানো গেছে। পরীক্ষায় বিদ্যুৎ পরিবহনের দক্ষতা ছিল প্রায় ২০ দশমিক ৮ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ ১ হাজার ১৮০ ওয়াট শক্তি সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

শুধু স্থির যন্ত্র নয়, উড়ন্ত ড্রোনের ক্ষেত্রেও প্রযুক্তিটি পরীক্ষা করা হয়েছে। গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, ঘণ্টায় প্রায় ৩০ কিলোমিটার গতিতে চলা একটি ড্রোন ৩০ মিটার দূর থেকে স্থিতিশীলভাবে ১৪৩ ওয়াট বিদ্যুৎ গ্রহণ করতে সক্ষম হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে উড়ন্ত ড্রোন, মহাকাশযান কিংবা স্যাটেলাইটকে মাঝপথেই তারবিহীনভাবে শক্তি সরবরাহের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গবেষকদের পরিকল্পনায় থাকা মহাকাশ সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র হবে কক্ষপথে স্থাপিত বিশাল সৌরপ্যানেলের সমন্বয়ে গঠিত একটি ব্যবস্থা। এসব প্যানেল সরাসরি সূর্যের আলো সংগ্রহ করবে এবং পরে সেই শক্তি মাইক্রোওয়েভ অথবা লেজার প্রযুক্তির মাধ্যমে পৃথিবী কিংবা মহাকাশে থাকা বিভিন্ন স্যাটেলাইটে পাঠানো হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পৃথিবীতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে দিন-রাত ও আবহাওয়ার পরিবর্তন বড় বাধা হিসেবে কাজ করে। কিন্তু মহাকাশে স্থাপিত সৌরপ্যানেল প্রায় সবসময়ই সূর্যের আলো পেতে পারে। ফলে সেখানে উৎপাদিত বিদ্যুৎ আরও স্থিতিশীল ও ধারাবাহিক হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

‘জুরি’ প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালে। পরে ২০২২ সালে গবেষক দল মহাকাশ সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য বিশ্বের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ভূমিভিত্তিক পরীক্ষামূলক যাচাই ব্যবস্থা সম্পন্ন করে। বর্তমানে প্রকল্পটির দ্বিতীয় ধাপে দীর্ঘ দূরত্বে বিদ্যুৎ পরিবহন এবং উৎপাদন দক্ষতা বাড়ানোর কাজ চলছে।

গবেষকরা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত উন্নয়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সৌরশক্তি সংগ্রহ ও রূপান্তরের দক্ষতা বৃদ্ধি, মাইক্রোওয়েভ বিমকে আরও নির্ভুলভাবে নিয়ন্ত্রণ করা এবং অ্যান্টেনাকে ছোট ও হালকা করার প্রযুক্তি।

বিজ্ঞাপন

বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রযুক্তি পুরোপুরি সফল হলে ভবিষ্যতে মহাকাশভিত্তিক বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে উঠতে পারে। এতে শুধু পৃথিবীতেই নয়, চাঁদ, মহাকাশ স্টেশন কিংবা দীর্ঘসময় আকাশে থাকা ড্রোন ও যোগাযোগ স্যাটেলাইটের জন্যও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ সহজ হতে পারে।

তবে প্রযুক্তিটি এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। বড় পরিসরে ব্যবহার শুরু করতে হলে বিদ্যুৎ পরিবহনের দক্ষতা, নিরাপত্তা ও ব্যয় কমানোর মতো বিষয়গুলোতে আরও উন্নয়ন প্রয়োজন হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD