Logo

সোলার ও উইন্ড বিদ্যুতে টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যতের সম্ভাবনা

profile picture
জনবাণী ডেস্ক
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৯:২৯
সোলার ও উইন্ড বিদ্যুতে টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যতের সম্ভাবনা
ছবি: সংগৃহীত

অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও শিল্পায়ন বাড়ার সঙ্গে বাংলাদেশে বিদ্যুতের চাহিদাও ক্রমাগত বাড়ছে। একই সময়ে গ্যাসের সীমিত মজুত, আমদানি করা জ্বালানির ব্যয়, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ এবং পরিবেশগত ঝুঁকি দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনাকে কঠিন করে তুলছে। এ পরিস্থিতিতে সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎ দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারের অন্যতম সম্ভাবনাময় মাধ্যম হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশে বছরের বড় একটি সময় পর্যাপ্ত সূর্যালোক পাওয়া যায়। ফলে আবাসিক ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানা, বাজার ও সরকারি স্থাপনার ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনের সুযোগ রয়েছে। গ্রামাঞ্চলে সোলার হোম সিস্টেমের ব্যবহার ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিধি বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। এখন ছাদভিত্তিক উৎপাদনের পাশাপাশি বড় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পেও পরিকল্পিত বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

বায়ুবিদ্যুতের ক্ষেত্রেও দেশের উপকূলীয় ও কিছু খোলা এলাকায় সম্ভাবনা রয়েছে। কক্সবাজার, কুয়াকাটা, ভোলা, পটুয়াখালী ও চট্টগ্রাম উপকূলসহ বিভিন্ন এলাকায় বাতাসের গতি বিবেচনায় নিয়ে উইন্ড টারবাইন স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করা যেতে পারে। বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানি পোড়ানোর প্রয়োজন হয় না, ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময় সরাসরি কার্বন নিঃসরণ কম থাকে। রাতে বাতাসের গতি উপযোগী থাকলে উৎপাদন চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকায় এটি সৌরবিদ্যুতের সঙ্গে সমন্বয় করেও কাজে লাগানো সম্ভব।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তবে সৌর ও বায়ুবিদ্যুতের উৎপাদন আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল। মেঘলা আবহাওয়া, কম সূর্যালোক বা দুর্বল বাতাসের কারণে উৎপাদন কমে যেতে পারে। তাই নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণের পাশাপাশি ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থা, আধুনিক বিদ্যুৎ গ্রিড, নির্ভুল আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং বায়ুসম্পদের বিস্তারিত জরিপ প্রয়োজন।

জমির সীমাবদ্ধতাও বড় চ্যালেঞ্জ। এ ক্ষেত্রে ভবনের ছাদ, অনাবাদি জমি এবং উপযুক্ত জলাশয়ে ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের মতো বিকল্প ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। একই সঙ্গে প্রকল্প নির্বাচনের আগে পরিবেশগত প্রভাব, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রয়োজন এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামোর সক্ষমতা মূল্যায়ন জরুরি।

বিজ্ঞাপন

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়াতে স্থিতিশীল নীতি, সহজ অর্থায়ন, উপযুক্ত কর-সুবিধা এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি সৌর প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারি ও বায়ু টারবাইনের প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের স্থানীয় উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণ সক্ষমতা গড়ে তোলা গেলে এ খাতে কর্মসংস্থান ও দেশীয় শিল্পের সুযোগও বাড়তে পারে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

শিল্প ও আবাসিক পর্যায়ে নেট মিটারিংয়ের পরিধি বাড়ানো হলে ব্যবহারকারীরা নিজেদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত উৎপাদিত বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহের সুযোগ পাবেন। এতে বিতরণ পর্যায়ে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় বিকেন্দ্রীভূত উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় একক কোনো প্রযুক্তিই যথেষ্ট নয়। তবে সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎকে আধুনিক গ্রিড, সংরক্ষণ প্রযুক্তি এবং অন্যান্য জ্বালানি উৎসের সঙ্গে সমন্বিতভাবে সম্প্রসারণ করা গেলে আমদানি-নির্ভরতা কমানো, পরিবেশগত চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD