ইরান যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভে যুক্তরাষ্ট্রে আটক ৬০ সাবেক সেনা

ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধ বা সংঘাতের বিরুদ্ধে অবস্থান জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক বিক্ষোভ করেছেন সাবেক সেনাসদস্যরা। সোমবার (২০ এপ্রিল) ওয়াশিংটনে মার্কিন কংগ্রেস ভবনের সামনে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তারা যুদ্ধবিরোধী অবস্থান জানান দেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অন্তত ৬০ জনকে আটক করে।
বিজ্ঞাপন
বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং কংগ্রেসকে যুদ্ধবিরোধী সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করার দাবি জানান। শুধু সাবেক সেনাই নন, বর্তমানে কর্মরত সেনাসদস্যদের পরিবারের সদস্যরাও এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।
‘অ্যাবাউট ফেস’ নামের একটি সংগঠনের উদ্যোগে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। অংশগ্রহণকারীদের দাবি, ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার স্থায়ী সমাধান জরুরি। তাদের মতে, যুদ্ধ বন্ধের সাংবিধানিক ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে থাকলেও তারা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
বিজ্ঞাপন
দীর্ঘ সময় ধরে কংগ্রেস ভবনের সামনে অবস্থান নেওয়ার পর পুলিশ সরে যেতে নির্দেশ দেয়। তবে বিক্ষোভকারীরা অবস্থান ত্যাগে অস্বীকৃতি জানালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে অন্তত ৬০ জনকে আটক করে।
একজন সাবেক সেনা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কংগ্রেসের দায়িত্ব থাকলেও তারা কার্যত কোনো ভূমিকা রাখছে না। অনেক দূর থেকে এসে তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিতে হচ্ছে যেন তারা সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করে।
আরেকজন বিক্ষোভকারী ইরাক যুদ্ধের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যে যুক্তি ও ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে, তা ইরাক যুদ্ধের সময়কার কথার সঙ্গে অনেকটাই মিল রয়েছে। একই ধরনের যুক্তি দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতিকে বারবার বৈধতা দেওয়া হচ্ছে, যা হতাশাজনক।
বিজ্ঞাপন
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বর্তমান সেনাদের পরিবারের সদস্যরা জানান, এই ধরনের যুদ্ধ সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় এবং ঝুঁকিপূর্ণ। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছাড়াই সামরিক পদক্ষেপ নিলে প্রাণহানির ঝুঁকি আরও বাড়বে। তারা কংগ্রেসকে এখনই দায়িত্বশীল ও সাহসী ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান, যাতে আর কোনো পরিবার প্রিয়জন হারিয়ে শোকাহত না হয়।








