Logo

১০৯ বছর আগে ব্রিটিশদের দেওয়া পাওনা টাকা ফেরত চায় এক পরিবার

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৫ আগস্ট, ২০২৬, ১৮:০৫
১০৯ বছর আগে ব্রিটিশদের দেওয়া পাওনা টাকা ফেরত চায় এক পরিবার
ছবি: সংগৃহীত

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সরকারকে দেওয়া ৩৫ হাজার রুপি ১০৯ বছর পর সুদসহ ফেরত চেয়েছে ভারতের একটি পরিবার। মধ্যপ্রদেশের ব্যবসায়ী জুম্মালাল রুঠিয়া ১৯১৭ সালে ব্রিটিশ সরকারকে ওই অর্থ ঋণ হিসেবে দিয়েছিলেন বলে দাবি পরিবারের। এ দাবির পক্ষে পুরোনো নথিপত্রও রয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।

বিজ্ঞাপন

রুঠিয়া পরিবারের দাবি যাচাই করতে ইতোমধ্যে তাদের কাছে প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্য চেয়েছে যুক্তরাজ্যের ডেট ম্যানেজমেন্ট অফিস (ডিএমও)। তবে ব্রিটিশ সরকার এখনো অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবি গ্রহণ করেছে—এমন কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। বিষয়টি বর্তমানে যাচাই-বাছাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে।

কীভাবে সামনে এলো ১০৯ বছরের পুরোনো ঋণ

জুম্মালাল রুঠিয়ার প্রপৌত্র গৌতম রুঠিয়া জানান, চলতি বছরের শুরুতে একটি পুরোনো মামলার জন্য পারিবারিক নথিপত্র খোঁজার সময় ১৯১৭ সালের ওই ঋণের কাগজটি তাদের নজরে আসে।

বিজ্ঞাপন

নথিতে ১৯১৭ সালের ৪ জুনের তারিখ রয়েছে। পরিবারের দাবি, ওই নথি ৩৫ হাজার টাকা ব্রিটিশ সরকারকে দেওয়ার প্রমাণ। সে সময় ভোপাল এজেন্সিতে কর্মরত ব্রিটিশ সরকারের একজন কর্মকর্তার মাধ্যমে অর্থটি দেওয়া হয়েছিল বলে তাদের দাবি।

নথিটি পাওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে একজন আইনজীবীর মাধ্যমে যুক্তরাজ্য সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। কয়েক মাস পর ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জবাব আসে এবং দাবি যাচাইয়ের জন্য অতিরিক্ত তথ্য ও নথি চাওয়া হয়।

গৌতম রুঠিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ জানতে চাইছে—১৯১৭ সালে অর্থ প্রদানকারী পরিবার এবং বর্তমানে অর্থ ফেরত দাবি করা পরিবার একই বংশের কি না। এজন্য পুরোনো সনদ, বংশতালিকা, পারিবারিক নথি ও ঋণসংক্রান্ত অন্যান্য তথ্য চাওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

কেন ব্রিটিশ সরকার ভারতীয় ব্যবসায়ীর কাছ থেকে টাকা নিয়েছিল?

রুঠিয়া পরিবারের দাবি অনুযায়ী, প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ব্রিটিশ বাহিনীর হয়ে বিপুলসংখ্যক ভারতীয় সৈন্য যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। সেই সৈন্যদের ভরণপোষণ ও যুদ্ধসংক্রান্ত ব্যয় মেটাতে ব্রিটিশ সরকার বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করছিল।

এই সময় ব্যবসায়ী জুম্মালাল রুঠিয়া ব্রিটিশ সরকারকে ৩৫ হাজার টাকা দেন বলে পরিবারটি দাবি করছে।

বিজ্ঞাপন

পরিবারের সদস্যদের মতে, এটি সাধারণ কোনো বাণিজ্যিক লেনদেন ছিল না। যুদ্ধের প্রয়োজনে দেওয়া অর্থ হওয়ায় এর পরিশোধের নির্দিষ্ট সময়সীমাও নথিতে উল্লেখ থাকার কথা নয় বলে তারা মনে করছেন।

গৌতম রুঠিয়ার ভাষ্য, ব্যাংক ঋণের মতো পাঁচ বা দশ বছরের নির্দিষ্ট মেয়াদে এটি দেওয়া হয়নি; বরং যুদ্ধকালীন প্রয়োজন মেটাতে অর্থ দেওয়া হয়েছিল।

৩৫ হাজার টাকা এখন কত?

বিজ্ঞাপন

১০৯ বছর আগে দেওয়া ৩৫ হাজার টাকার বর্তমান মূল্য কত হতে পারে, তা নিয়েও হিসাব করছে পরিবারটি।

রুঠিয়া পরিবারের দাবি, তারা শুধু মূল অর্থ ফেরত চায় না। এর সঙ্গে সুদ, চক্রবৃদ্ধি সুদ এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক ব্যয়ও হিসাবের মধ্যে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে বর্তমানে তারা মোট কত অর্থ দাবি করবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি পরিবারটি। প্রথমে ব্রিটিশ সরকারের নথির সঙ্গে ১৯১৭ সালের দলিলের সত্যতা যাচাই এবং ঋণের প্রকৃতি নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছে তারা।

বিজ্ঞাপন

ব্রিটেনের পুরোনো যুদ্ধঋণ পরিশোধের প্রসঙ্গ

পরিবারটির দাবি, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় নেওয়া বিভিন্ন ঋণের বড় একটি অংশ ২০১৫ সালে ব্রিটিশ সরকার পরিশোধ করেছিল। ব্রিটিশ পার্লামেন্টে দেওয়া সরকারি তথ্যেও প্রথম বিশ্বযুদ্ধ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বন্ড ও ঋণ পরিশোধের বিষয়টি উঠে এসেছে।

তবে ১৯১৭ সালে জুম্মালাল রুঠিয়ার দেওয়া ৩৫ হাজার টাকা ওই পরিশোধ করা ঋণ বা বন্ডের অংশ ছিল কি না, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়। ফলে রুঠিয়া পরিবারের দাবির ক্ষেত্রে এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

কে ছিলেন জুম্মালাল রুঠিয়া?

পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, জুম্মালাল রুঠিয়া সে সময় মধ্যপ্রদেশের একজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ছিলেন। তার বড় ব্যবসার পাশাপাশি প্রায় তিন হাজার গরুর একটি গোশালাও ছিল বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।

পরিবারের কাছে তার পুরোনো ছবি, ব্যবহৃত গাড়ির ছবি এবং ব্যবসা ও পারিবারিক সম্পদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নথি সংরক্ষিত রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পরিবারের সদস্যদের দাবি, জুম্মালালের আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহের কারণ নেই। সে সময় তিনি আফিম চাষের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন এবং তার একটি রোলস-রয়েস গাড়ি ছিল বলেও তারা জানিয়েছেন।

১৯৩৭ সালে জুম্মালাল রুঠিয়া মারা যান। এর প্রায় এক দশক পর ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে এবং ভারত স্বাধীন হয়। পরিবারের দাবি, ব্রিটিশ সরকারকে দেওয়া ওই অর্থ কখনো ফেরত দেওয়া হয়নি।

এখন কী হবে?

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ১৯১৭ সালের নথির সত্যতা যাচাই। ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ রুঠিয়া পরিবারের কাছ থেকে যেসব দলিল চেয়েছে, সেগুলো পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট সরকারি রেকর্ডের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে।

এই যাচাইয়ে যদি প্রমাণিত হয় যে জুম্মালাল রুঠিয়া সত্যিই ব্রিটিশ সরকারকে ৩৫ হাজার টাকা ঋণ দিয়েছিলেন এবং তা পরিশোধ করা হয়নি, তাহলে দাবিটির পরবর্তী আইনি অবস্থান কী হবে, সেটি নির্ধারণ করতে হবে।

পরিবারটি প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপ ও সালিসি প্রক্রিয়ার কথাও বিবেচনা করছে। তবে তার আগে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের নথি যাচাইয়ের ফলাফল পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে তারা।

বিজ্ঞাপন

অর্থাৎ, ১০৯ বছর আগের এই আর্থিক লেনদেন এখনো ব্রিটিশ সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত দাবি হিসেবে স্বীকৃতি পায়নি। কিন্তু পুরোনো দলিল সামনে আসার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এখন সেই দলিল ও পারিবারিক তথ্য কতটা সরকারি নথির সঙ্গে মেলে, তার ওপরই নির্ভর করছে ১৯১৭ সালের ৩৫ হাজার টাকার এই দাবির ভবিষ্যৎ।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD