‘জেন-জি’দের জন্য বড় ঘোষণা নরেন্দ্র মোদির

‘জেন-জি’ প্রজন্মের তরুণদের জন্য বিনামূল্যে অনলাইন কোচিং এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রশিক্ষণ চালুর ঘোষণা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (১৫ আগস্ট) ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে তিনি এ ঘোষণা দেন।
নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লার প্রাচীর থেকে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেওয়া ভাষণে মোদি বলেন, ভারতের হাতে প্রয়োজনীয় ডিজিটাল অবকাঠামো রয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষ শিক্ষক ও শিক্ষাবিদও রয়েছেন। তাই এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য তরুণদের বিনামূল্যে অনলাইন কোচিং দেওয়া হবে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের পরিবারের ওপর থাকা আর্থিক চাপ কমানো সম্ভব হবে।
ভারতে সরকারি কলেজ ও চাকরিতে প্রবেশের জন্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে, এসব পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য ভারত জুড়ে গড়ে উঠেছে বিশাল কোচিং ব্যবস্থা। শিক্ষার্থীদের অনেকেই বছরের পর বছর এসব কোচিংয়ে পড়াশোনা করেন। এতে পরিবারের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হয়।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
নরেন্দ্র মোদি বলেন, কোচিংয়ের প্রতিযোগিতা মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিনামূল্যে অনলাইন ক্লাস চালু হলে শিক্ষার্থীরা পরিবারের কাছেই থেকে পড়াশোনা করতে পারবেন এবং কোচিংয়ের অতিরিক্ত খরচ থেকেও পরিবারগুলো কিছুটা মুক্তি পাবে।
মোদির এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো, যখন ভারতে শিক্ষাব্যবস্থা ও চাকরির সুযোগ নিয়ে তরুণদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং নিয়োগ পরীক্ষায় একের পর এক অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তরুণদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এসব আন্দোলনের চাপে গত মাসে পদত্যাগ করেন ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।
বিক্ষোভে ভারতের তরুণদের চাকরি, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক সুযোগ নিয়ে গভীর হতাশা প্রকাশ পায়। সমালোচকদের মতে, ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর মোদি সরকারের জন্য এটি অন্যতম বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ।
বিক্ষোভের পর তরুণদের সন্তুষ্ট করতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছে মোদি সরকার। এর অংশ হিসেবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শাস্তি আরও কঠোর করেছে ভারতের পার্লামেন্ট।
বিজ্ঞাপন
তরুণদের জন্য বিনামূল্যে কোচিংয়ের পাশাপাশি এআই দক্ষতা তৈরির ওপরও জোর দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি ঘোষণা করেছেন, আগামী এক বছরে এক কোটি তরুণকে এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
মোদির মতে, ভবিষ্যতের কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিতে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই তরুণদের আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তুলতে এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে।
এক ঘণ্টার বেশি সময়ের ভাষণে ভারতের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পরিকল্পনাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। আগামী ২০ বছরের মধ্যে ভারতকে একটি উন্নত দেশে পরিণত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
আর এজন্য সাত দফা উন্নয়ন ও সংস্কার কাঠামোর কথা জানান মোদি। এর মধ্যে উৎপাদন, কৃষি, প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা খাতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যোগব্যায়াম, পর্যটন ও হস্তশিল্পের মাধ্যমে ভারতের ‘সফট পাওয়ার’ বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
মোদি বলেন, উৎপাদন খাতে ভারতকে বিশ্বের একটি নির্ভরযোগ্য সরবরাহ-শৃঙ্খল অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আগামী কয়েক বছরে ভারতে আরও আটটি অর্ধপরিবাহী চিপ কারখানা স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি ২০৪৭ সালের মধ্যে ১০০ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম পাঁচটি পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
গত বছর বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ ও পরিচালনার সুযোগ দেয় ভারত সরকার। এর মাধ্যমে বিকল্প জ্বালানি খাত সম্প্রসারণে সরকারের আগ্রহের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ভাষণের শেষ দিকে ভারতের উন্নয়নে তরুণদের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, একটি উন্নত ভারত গড়ে তোলার যাত্রায় তরুণদের বড় ভূমিকা রয়েছে। আর উন্নত ভারতের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগীও হবে দেশের তরুণ প্রজন্ম।








