Logo

আগামী সপ্তাহে ভারত যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী, মোদির সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১৭:০৩
আগামী সপ্তাহে ভারত যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী, মোদির সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা
ছবি: সংগৃহীত

আগামী সপ্তাহের শেষ দিকে ভারত সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সম্ভাব্য এই সফরকে ঘিরে ঢাকা ও নয়াদিল্লিতে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ঢাকা ও নয়াদিল্লির বিভিন্ন সূত্রের বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সফরের বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং কোনো তারিখও নির্ধারণ করা হয়নি।

বিজ্ঞাপন

সফরটি চূড়ান্ত হলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই হবে তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর। সম্ভাব্য দুই দিনের সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হতে পারে।

বৈঠক হলে দুই দেশের বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তাসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে সফরের পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি এখনো নির্ধারিত হয়নি।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ফেব্রুয়ারিতে তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানায় নয়াদিল্লি। এ ছাড়া আগামী সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকসের আউটরিচ অধিবেশনেও বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত।

প্রথমবার বৈঠকে বসতে পারেন তারেক-মোদি

তারেক রহমান ও নরেন্দ্র মোদির সম্ভাব্য বৈঠককে ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা সরকারের পতন এবং তার ভারতে অবস্থানকে ঘিরে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়।

বিজ্ঞাপন

নতুন বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারতের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখার আগ্রহের কথা জানিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত এপ্রিল মাসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান নয়াদিল্লি সফর করেন এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন।

এরপর ১০ আগস্ট ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। সেখানে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানো এবং শরীফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের প্রত্যর্পণের বিষয়ও উঠে আসে।

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ আলোচনায় থাকতে পারে

বিজ্ঞাপন

সম্ভাব্য তারেক-মোদি বৈঠকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ভারতে যাওয়ার পর থেকে শেখ হাসিনা সেখানেই অবস্থান করছেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার মৃত্যুদণ্ডের রায় হওয়ার পর তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

নয়াদিল্লি জানিয়েছে, বাংলাদেশের অনুরোধ প্রচলিত আইন ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসারে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি ভারত থেকে ভার্চুয়ালি সাংবাদিকদের সঙ্গে শেখ হাসিনার কথা বলাকে কেন্দ্র করেও দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। ঢাকার পক্ষ থেকে এ ঘটনায় ভারতের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করা হয়। তবে ওই অনুষ্ঠান আয়োজনে ভারতের কোনো ভূমিকা ছিল না বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি।

বাণিজ্য, পানি ও সীমান্ত ইস্যুতে নজর

সম্ভাব্য বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যাও গুরুত্ব পেতে পারে। বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি সহযোগিতা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার পাশাপাশি পানি বণ্টনের বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে।

বিজ্ঞাপন

বিশেষ করে ১৯৯৬ সালের গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে চুক্তিটির মেয়াদ বাড়ানো বা নবায়নের বিষয়টি ঢাকা ও নয়াদিল্লির আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে।

সূত্র: এনডিটিভি

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD