Logo

নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের নতুন ভবন উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১৪:৩৩
নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের নতুন ভবন উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

দেশে স্নায়ুরোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা আরও সম্প্রসারিত হচ্ছে। ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে শনিবার (১৫ আগস্ট) চালু হচ্ছে ৫০০ শয্যার নতুন ভবন। সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভবনটির উদ্বোধন করবেন।

বিজ্ঞাপন

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন ভবনের নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। অধিকাংশ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপনের কাজও সম্পন্ন হয়েছে। নতুন ভবন চালু হলে হাসপাতালটির মোট শয্যা সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ১ হাজারে। ফলে এটি দেশের সবচেয়ে বড় বিশেষায়িত স্নায়ুরোগ চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

নতুন ভবনটি ১৫ তলা। এর মধ্যে তিনটি তলা বেজমেন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হবে। সেখানে পার্কিংয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন সার্ভিস সেকশন রাখা হয়েছে। ওপরের ১২ তলায় রয়েছে ওয়ার্ড, অপারেশন থিয়েটার ও ডায়াগনস্টিক ইউনিট। ভবনটিতে ৪০টি আইসিইউ বেড, ২৪টি পোস্ট-অপারেটিভ বেড এবং ১১২টি কেবিনের ব্যবস্থা রয়েছে।

হাসপাতালের চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখানে সবচেয়ে বেশি চিকিৎসা নিতে আসেন স্ট্রোকের রোগীরা। এরপর রয়েছে সড়ক দুর্ঘটনা কিংবা অন্যান্য দুর্ঘটনায় মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডে আঘাত পাওয়া রোগী।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া পার্কিনসন্স, ডিমেনশিয়া, জিবিএস, মৃগী, হাইড্রোকেফালাসসহ বিভিন্ন ধরনের নিউরোলজিক্যাল রোগের চিকিৎসাও দেওয়া হয়। শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক—সব বয়সী রোগীর জন্য এখানে স্নায়ুরোগের চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে।

নবনির্মিত ভবনটি তিনটি বেজমেন্টসহ মোট ১৫ তলা এবং পুরো ভবনটি সেন্ট্রাল এসি ব্যবস্থার আওতায় থাকবে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, সরকারি কোনো চিকিৎসাকেন্দ্রে এ ধরনের ব্যবস্থা এটিই প্রথম। ভবনটিতে সড়ক দুর্ঘটনা, উঁচু স্থান থেকে পড়ে যাওয়া কিংবা যানবাহন দুর্ঘটনায় আহতদের জন্য ১০০ শয্যার বিশেষায়িত ট্রমা ইউনিট রয়েছে। এখানে ২৪ ঘণ্টা অস্ত্রোপচারের সুবিধাও রাখা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

চারটি অপারেশন থিয়েটারের মধ্যে দুটি মডুলার ওটি। জীবাণুমুক্ত ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে অস্ত্রোপচারের জন্য বিশেষভাবে তৈরি এসব ওটিতে জার্মান প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে অস্ত্রোপচারের পর রোগীদের সংক্রমণের ঝুঁকি কমবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত ও পঙ্গু রোগীদের এক স্থান থেকে অন্যত্র নেওয়ার ক্ষেত্রে ঝুঁকি কমাতে ভবনের প্রথম থেকে তৃতীয় তলা পর্যন্ত স্কেলেটর স্থাপন করা হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে এ ধরনের সুবিধাও প্রথমবারের মতো যুক্ত করা হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

নতুন ভবনে ৪০ শয্যার আইসিইউ, ২০ শয্যার এইচডিইউ এবং ৬২টি ভেন্টিলেটরের সুবিধা রয়েছে। পাশাপাশি একটি ক্যাথল্যাব, দুটি এমআরআই ও দুটি সিটি স্ক্যান মেশিন স্থাপন করা হয়েছে। চিকিৎসা সরঞ্জাম জীবাণুমুক্ত করার জন্য অত্যাধুনিক অটোক্লেভ মেশিন, চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সলিড ওয়েস্ট ডিসপোজাল সিস্টেম এবং পৃথক অক্সিজেন প্ল্যান্টও রাখা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ নুরুজ্জামান খান বলেন, শনিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নতুন ভবনটির উদ্বোধন করবেন। ভবনটি চালু হলে হাসপাতালের সঙ্গে আরও ৫০০ শয্যা যুক্ত হবে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, বর্তমানে শয্যাসংকটের কারণে অনেক রোগীকে চিকিৎসা না দিয়েই ফেরত পাঠাতে হয়। কারণ নির্ধারিত শয্যার বাইরে রোগী ভর্তি করা সম্ভব হয় না। নতুন ভবন চালু হলে আরও বেশি রোগীকে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হবে এবং শয্যার অভাবে রোগী ফেরত দেওয়ার পরিস্থিতি অনেকটাই কমে আসবে।

পরিচালক আরও বলেন, দেশে নিউরো রোগীদের চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ২০০৬ সালের ২৩ অক্টোবর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তাঁর জন্মদিনে ছেলে ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নতুন ভবনটির উদ্বোধন করবেন—এটি হাসপাতালের জন্য গর্বের বিষয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD