ভারত সঠিক পথে না এলে সরাসরি জবাব দেবে পাকিস্তান: শেহবাজ শরীফ

পাকিস্তানের পানির প্রতিটি ফোঁটাকে ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমারেখা হিসেবে উল্লেখ করে ভারতকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ। তিনি বলেছেন, ভারত সঠিক পথে ফিরে না এলে পাকিস্তান সরাসরি জবাব দিতে প্রস্তুত।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে রাজধানী ইসলামাবাদে ‘ইয়াদগার-ই-ফাতাহ’ বা বিজয় স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
দেশপ্রেম ও জাতীয় উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে স্মৃতিস্তম্ভটির উদ্বোধন করা হয়। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ এবং সামরিক বাহিনীর প্রধান (সিডিএফ) ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির যৌথভাবে এর উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে শেহবাজ শরীফ বলেন, স্মৃতিস্তম্ভটি পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর শ্রেষ্ঠত্বের প্রতীক। ‘মারকা-ই-হক’ নামে সামরিক অভিযানে সফলতার জন্য ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ও তাঁর নেতৃত্বাধীন দলকে অভিনন্দন জানান তিনি। মাত্র আট মাসে বিশেষ নকশার এই স্থাপনাটি নির্মাণ করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
বিজ্ঞাপন
ভারতের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দিয়ে শেহবাজ বলেন, পাকিস্তান এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় আগ্রহী। তবে তাদের শান্তির আকাঙ্ক্ষাকে দুর্বলতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সশস্ত্র বাহিনীর প্রশংসা করে তিনি বলেন, সামরিক বাহিনীর সাফল্যে পুরো জাতির মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং প্রতিপক্ষকে বড় পরাজয়ের মুখে পড়তে হয়েছে।
ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, বিশ্বকে নতুন সংঘাত থেকে রক্ষায় তাঁর দেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধবিরতি কার্যকরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকার কথাও স্মরণ করেন শেহবাজ। ভবিষ্যতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপটে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’তে তুরস্কের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি তুলে ধরেন। আফগানিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে যাতে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালিত না হয়, সে বিষয়ে কাবুল প্রশাসনকেও সতর্ক করেন তিনি।
কাশ্মীর ও ফিলিস্তিন ইস্যুতেও পাকিস্তানের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন শেহবাজ শরীফ। ফিলিস্তিনিদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে পাকিস্তানের সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে কাশ্মীরিদের আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন।
দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি প্রসঙ্গে শেহবাজ বলেন, ঐক্যবদ্ধ জাতিকে কোনো পরাশক্তিই পরাজিত করতে পারে না। রাজনৈতিক মতপার্থক্য যেন শত্রুতায় পরিণত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিদেশি কূটনীতিক, সিনেট চেয়ারম্যান ও জাতীয় পরিষদের স্পিকারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী, বিভিন্ন প্রদেশের পুলিশ এবং আজাদ কাশ্মীর ও গিলগিট-বালতিস্তানের প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও এতে অংশ নেন।
পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের সঙ্গে সামরিক সংঘাতে বিজয়ের স্মারক হিসেবে ‘ইয়াদগার-ই-ফাতাহ’ নির্মাণ করা হয়েছে। দেশটির সরকারি বক্তব্য অনুযায়ী, জম্মু ও কাশ্মীরে একটি হামলার পর ওই বছরের ৬ ও ৭ মে ভারতীয় বাহিনী পাকিস্তানে হামলা চালায়। এর জবাবে পাকিস্তানও সামরিক প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
৮০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা ওই সংঘাত ১০ মে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপে থামে বলে পাকিস্তানের দাবি। দেশটির ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সংঘাতে ফ্রান্সের তৈরি রাফালসহ ভারতের আটটি যুদ্ধবিমান এবং বেশ কয়েকটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছিল। তবে সংঘাত ও সামরিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের বক্তব্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে।








