মক্কা চুক্তির পর সৌদিতে হামলা, তুরস্ক-পাকিস্তানকে হুতিদের হুমকি

সৌদি আরবের তেল উৎপাদন ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান আরামকোর একটি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে সৌদি আরবের ‘মক্কা চুক্তি’ স্বাক্ষরের মাত্র একদিন পরই এই হামলার ঘটনা ঘটল।
বিজ্ঞাপন
তিন দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী, তাদের যেকোনো একটি দেশের ওপর হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের বিরুদ্ধেই হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ফলে সৌদির বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের ক্ষেত্রে পাকিস্তান ও তুরস্কও জড়িয়ে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কার মধ্যেই দেশ দুটিকে সতর্ক করেছে হুতিরা।
হুতিদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইয়েমেনের ভৌগোলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘন করে পাকিস্তান ও তুরস্ক কোনো ধরনের আগ্রাসনে যুক্ত হলে তাদের কঠোর জবাব দেওয়া হবে। একইভাবে ইয়েমেনের জনগণের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সামরিক অভিযানে দেশ দুটি অংশ নিলে তাদেরও ছাড় দেওয়া হবে না।
হুতি কমান্ডারদের বক্তব্য অনুযায়ী, পাকিস্তান ও তুরস্ক যদি ইয়েমেনের ভূখণ্ডে হস্তক্ষেপের পরিকল্পনা করে কিংবা ইয়েমেনি জনগণের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সামরিক তৎপরতায় যুক্ত হয়, তাহলে তাদের কঠিন পরিণতির মুখে পড়তে হবে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এ ধরনের হুমকির মাধ্যমে হুতিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। পাশাপাশি দেশটির গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনা ও তেল পরিবহন অবকাঠামোতে হামলা অব্যাহত রাখারও বার্তা দিয়েছে তারা।
শুধু সৌদি আরবের স্থাপনাই নয়, ইয়েমেনে দেশটির মিত্র সরকারি বাহিনীকেও লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে হুতিরা। সম্প্রতি মারিব ও হাদরামাউত এলাকায় কয়েক ঘণ্টা ধরে ধারাবাহিক হামলা চালানোর খবর পাওয়া গেছে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে মারিব ও তাইয়িব এলাকাতেও নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ইয়েমেনে প্রায় ১২ বছর ধরে গৃহযুদ্ধ চলছে। সাম্প্রতিক কয়েক বছরে সংঘাত অনেকটা স্তিমিত থাকলেও নতুন করে উত্তেজনা বাড়ছে। রাজনৈতিক আলোচনা ও সমঝোতার উদ্যোগ না নেওয়া হলে এই সংঘাত আরও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা








