Logo

‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ ইরানের বিরুদ্ধে নয়: তুরস্ক

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৯ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩৮
‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ ইরানের বিরুদ্ধে নয়: তুরস্ক
ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ করেছে তুরস্ক। তবে এই চুক্তির লক্ষ্য ইরান কিংবা অন্য কোনো নির্দিষ্ট দেশ যৌথ হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি বলে জানিয়েছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। শনিবার (৮ আগস্ট) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটি রাষ্ট্র সশস্ত্র হামলার শিকার হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে হাকান ফিদান বলেন, চুক্তিতে কোনো দেশকে যৌথ হুমকি হিসেবে নির্ধারণ করা হয়নি। স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর ওপর হামলা না চালানো কোনো রাষ্ট্রকে এই চুক্তির আওতায় লক্ষ্যবস্তু হিসেবেও বিবেচনা করা হবে না।

বিজ্ঞাপন

ন্যাটোর সঙ্গে তুলনা

চুক্তিটিকে ন্যাটোর সম্মিলিত প্রতিরক্ষা নীতির সঙ্গে কৌশলগতভাবে তুলনা করেছেন হাকান ফিদান। ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো একটি সদস্যদেশ আক্রান্ত হলে সেটিকে পুরো জোটের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

তবে মক্কা চুক্তির আওতায় কোনো হামলার জবাব কীভাবে দেওয়া হবে, তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে বলে জানান তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। আক্রান্ত দেশকে সহায়তার অনুরোধ জানাতে হবে এবং কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন, সেটিও নির্দিষ্ট করতে হবে। সহায়তার মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য, রসদ, গোলাবারুদ সরবরাহ থেকে শুরু করে সামরিক ইউনিট মোতায়েন পর্যন্ত থাকতে পারে।

বিজ্ঞাপন

চুক্তির আওতায় তিন দেশের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং সামরিক প্রধানদের সমন্বয়ে একটি রাজনৈতিক ও সামরিক কমিটি গঠন করা হবে। পাশাপাশি সৌদি আরবে একটি সচিবালয় স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

ফিদান জানান, যৌথ প্রশিক্ষণ, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, রসদ সরবরাহ, হুমকি মূল্যায়ন এবং সামরিক আন্তঃকার্যক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও তিন দেশ একসঙ্গে কাজ করবে।

প্রতিরক্ষা শিল্পেও সহযোগিতা

বিজ্ঞাপন

প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতাও চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। মক্কায় তিন নেতার বৈঠকে বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানান ফিদান। বিশেষ করে একে অপরের সামরিক প্রযুক্তি থেকে কীভাবে সুবিধা নেওয়া যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, চুক্তিটির প্রস্তুতি নিতে প্রায় দুই বছর আট মাস সময় লেগেছে। তাই এটি শুধু ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে গড়ে ওঠেনি বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

তবে তুরস্কের এই বক্তব্যের পরও ইরানের কয়েকজন কর্মকর্তা চুক্তিটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা সৌদি আরবকে নিরাপত্তার জন্য নতুন অংশীদারদের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর না করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ইরানের সংসদীয় জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিশনের সদস্য মাহমুদ নাভাবিয়ন বলেন, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে সহযোগিতা সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে না।

কমিশনের আরেক সদস্য ইব্রাহিম রেজাইও চুক্তিটিকে ‘কাগজে-কলমের চুক্তি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

বিজ্ঞাপন

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সরাসরি মক্কা চুক্তির নাম উল্লেখ না করলেও আঞ্চলিক দেশগুলোকে নিজেদের সক্ষমতার ওপর নির্ভর করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ‘প্রকৃত ভ্রাতৃত্বের’ ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি ও প্রস্তুতির কথাও তুলে ধরেন।

সূত্র: আল জাজিরা

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD