ভোট গণনার সময় ফল পাল্টানোর চেষ্টা করতে পারেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পর ফল গণনা ও চূড়ান্ত ঘোষণার মধ্যবর্তী সময়কে ঘিরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তারা। তাদের আশঙ্কা, এই সময়কে কাজে লাগিয়ে নির্বাচনের ফল নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো কিংবা গণনা ও প্রত্যয়ন প্রক্রিয়ায় বাধা তৈরির চেষ্টা হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ভোট গণনা শেষ করে চূড়ান্ত ফল প্রকাশে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। বিশেষ করে মেইল-ইন ব্যালট গণনার ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াটি দীর্ঘায়িত হয়। দ্য গার্ডিয়ানের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মেইল ব্যালট সাধারণত পরে গণনা করা হয় এবং সেগুলোর যাচাই ও গণনা শেষ করতে কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
নির্বাচন কর্মকর্তাদের একটি অংশ আশঙ্কা করছেন, এই অপেক্ষার সময়কে কেন্দ্র করে ভোটে অনিয়ম বা কারচুপির অভিযোগ ছড়িয়ে মানুষের মধ্যে সন্দেহ তৈরি করা হতে পারে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে ৫০ জনের বেশি নির্বাচন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, সাইবার হামলা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর বিষয়ে তাদের উদ্বেগের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন ভোটার তালিকা যাচাই এবং ভোটের নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। ভোটার তালিকায় অযোগ্য বা অ-নাগরিক ভোটার থাকার বিষয়ে প্রশাসনের দাবি নিয়ে নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলেছেন। এ ধরনের তথ্য যাচাইয়ের পদ্ধতি ও নির্ভরযোগ্যতা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
মেইল-ইন ভোট নিয়েও প্রশাসনের উদ্যোগ আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেইলে ভোট দেওয়ার ওপর বিধিনিষেধ আরোপের প্রচেষ্টার পাশাপাশি ভোট গণনার পদ্ধতি নিয়ে ট্রাম্পের বিভিন্ন অভিযোগের পক্ষে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
নির্বাচনের সাইবার নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। দ্য গার্ডিয়ানের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার সিকিউরিটি এজেন্সি (CISA)-এর নির্বাচন নিরাপত্তা কার্যক্রমে জনবল কমানো হয়েছে এবং নির্বাচনী সাইবার হুমকি মোকাবিলায় কাজ করা একটি দলও বিলুপ্ত হয়েছে।
তবে নির্বাচন কর্মকর্তারা সম্ভাব্য বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা মোকাবিলায় ভোটারদের আগাম তথ্য দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। স্থানীয় কর্মকর্তারা ভোট গণনা, ফল প্রকাশ ও প্রত্যয়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে পরিষ্কার তথ্য জানিয়ে জনগণের আস্থা ধরে রাখার চেষ্টা করছেন।
বিজ্ঞাপন
এর আগে ট্রাম্প ও তার সহযোগীদের নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপ এবং ভোটিং ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন দাবি প্রকাশ্যে এসেছে। এসব দাবির কিছু বিষয়ে নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও সরকারি কর্মকর্তারা পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকার কথা জানিয়েছেন।








