Logo

পরমাণু অস্ত্রের সম্ভাবনা নাকচ করেনি সৌদি, গোয়েন্দা নথিতে নতুন তথ্য

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২১:২১
পরমাণু অস্ত্রের সম্ভাবনা নাকচ করেনি সৌদি, গোয়েন্দা নথিতে নতুন তথ্য
ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরব ভবিষ্যতে পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি গড়ে তোলার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেনি বলে মূল্যায়ন করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সম্প্রদায়। সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেসে পাঠানো গোপন নথিতে এমন মূল্যায়ন রয়েছে বলে কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।

বিজ্ঞাপন

এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি নিয়ে কংগ্রেসে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। চুক্তিটি বর্তমানে ৯০ দিনের কংগ্রেসীয় পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে।

চুক্তিটির আওতায় সৌদি আরবে মার্কিন কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে। মার্কিন প্রশাসনের ভাষ্য, এর মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক জোরদার হওয়ার পাশাপাশি রাশিয়া ও চীনের পরিবর্তে মার্কিন প্রযুক্তি ও কোম্পানির সঙ্গে সৌদি আরবের সহযোগিতা বাড়বে।

তবে চুক্তিতে সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি নিয়েই মূল উদ্বেগ। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে সৌদি আরবকে ৫ শতাংশের কম মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সুযোগ থাকবে। পরে আলাদা সমঝোতা ও পর্যালোচনার মাধ্যমে সেই সীমা ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

২০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিজেই অস্ত্র তৈরির পর্যায়ের উপাদান নয়। তবে এ মাত্রায় সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা অর্জন করলে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উৎপাদনের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার দিকে এগিয়ে যাওয়া সহজ হতে পারে—এমন উদ্বেগ জানিয়েছেন পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারবিরোধী বিশেষজ্ঞরা।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

চুক্তির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবের কোনো পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচিকে সমর্থন করে না এবং ভবিষ্যতেও করবে না। প্রশাসনের মতে, চুক্তিতে পারমাণবিক নিরাপত্তা ও অস্ত্র বিস্তার রোধের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

সৌদি সরকার গোয়েন্দা মূল্যায়ন নিয়ে ওয়াশিংটন পোস্টের প্রশ্নের সরাসরি জবাব দেয়নি। তবে দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী আবদুল আজিজ বিন সালমানের আগের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে। তিনি সৌদি আরবের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ‘শান্তিপূর্ণ’ হিসেবে বর্ণনা করে দায়িত্বশীলতা ও স্বচ্ছতার সর্বোচ্চ মান বজায় রাখার কথা জানিয়েছিলেন।

বিজ্ঞাপন

এদিকে সৌদি আরব আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) সঙ্গে আরও বিস্তৃত নজরদারি ও যাচাইব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছে। তবে দেশটি এখনো IAEA-এর ‘অ্যাডিশনাল প্রটোকল’ গ্রহণে সম্মত হয়নি। সেপ্টেম্বরের এক প্রতিবেদনে IAEA মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি জানান, প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় সৌদি পারমাণবিক কর্মসূচির বিভিন্ন সংবেদনশীল ধাপ পর্যবেক্ষণের সুযোগ রাখা হচ্ছে।

এর আগে আগস্টে চুক্তিটি মার্কিন কংগ্রেসে পর্যালোচনার জন্য জমা দেওয়া হয়। চুক্তিটি কার্যকর ঠেকাতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কংগ্রেসকে ব্যবস্থা নিতে হবে। এ নিয়ে কয়েকজন মার্কিন আইনপ্রণেতা চুক্তির নথি ও অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশেরও দাবি জানিয়েছেন।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ২০১৮ সালে বলেছিলেন, ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি করলে সৌদি আরবও তা অনুসরণ করবে। সেই বক্তব্যও দেশটির ভবিষ্যৎ পরমাণু নীতি নিয়ে মার্কিন আইনপ্রণেতা ও বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের অন্যতম কারণ হিসেবে আলোচনায় এসেছে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD