হরমুজে যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি আন্ডারওয়াটার ড্রোন জব্দ করল ইরান

হরমুজ প্রণালী ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামরিক উত্তেজনার মধ্যে আরও একটি মার্কিন স্বয়ংক্রিয় আন্ডারওয়াটার ড্রোন ইরানের হাতে যাওয়ার দাবি উঠেছে। ইরান-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে বলা হয়েছে, ‘রেমাস ৬০০’ নামের একটি পানির নিচের স্বয়ংক্রিয় যান ইরানের উপকূলে এসে পৌঁছানোর পর সেটি ইরানি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
২০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত কয়েকটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ড্রোনটি সাগরে ত্রুটির কারণে ভেসে গিয়ে ইরানের উপকূলে পৌঁছায়। এটি মার্কিন নৌবাহিনীর ব্যবহৃত REMUS 600 সিরিজের একটি যান বলে দাবি করা হয়েছে। তবে ঘটনাটির সুনির্দিষ্ট সময়, স্থান ও ড্রোনটির প্রকৃত মালিকানা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
REMUS 600 একটি স্বয়ংক্রিয় আন্ডারওয়াটার ভেহিকল (AUV), যা পানির নিচে দীর্ঘ সময় ধরে তথ্য সংগ্রহ, সমুদ্রতল জরিপ, নজরদারি ও মাইন শনাক্তকরণের মতো কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। মার্কিন নৌবাহিনীর ব্যবস্থায় এর একটি সংস্করণ ‘Mk 18 Mod 2 Kingfish’ নামে পরিচিত।
এর আগে ৮ সেপ্টেম্বর হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে আরেকটি মার্কিন আন্ডারওয়াটার ড্রোন জব্দের দাবি করেছিল ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে সেটিকে মার্কিন প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডুরিলের তৈরি Dive-LD হিসেবে শনাক্ত করা হয়।
বিজ্ঞাপন
আইআরজিসির দাবি ছিল, গোয়েন্দা তথ্য ও সামরিক সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে একটি জটিল অভিযানের মাধ্যমে ড্রোনটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে। পরে প্রকাশিত ছবিতে যানটির বিভিন্ন অংশও দেখানো হয়।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তবে যুক্তরাষ্ট্র ওই ঘটনার ভিন্ন ব্যাখ্যা দেয়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, তাদের পরিচালিত একটি আন্ডারওয়াটার ড্রোন আঞ্চলিক জলসীমায় জরিপ চালানোর সময় ত্রুটির কারণে বিকল হয়ে যায়। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, সেটিতে শ্রেণিবদ্ধ সোনার বা রাডার সরঞ্জাম ছিল না এবং কোনো সংবেদনশীল তথ্যও সংগ্রহ করা হয়নি।
নতুন করে আলোচনায় আসা REMUS 600-এর ঘটনাটিও একই ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ইরান-সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে ড্রোনটি মার্কিন নৌবাহিনীর বলে দাবি করা হলেও, সেটি কীভাবে ইরানের উপকূলে পৌঁছেছে এবং এর ভেতরে কী ধরনের সরঞ্জাম বা তথ্য ছিল, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
বিজ্ঞাপন
হরমুজ প্রণালীতে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একাধিক সামুদ্রিক ও ড্রোন-সংক্রান্ত ঘটনা ঘটেছে। ৮ সেপ্টেম্বরের আন্ডারওয়াটার ড্রোন নিয়ে বিরোধের পর আইআরজিসি আবারও একটি মার্কিন চালকবিহীন জলযানের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর দাবি করেছিল।
বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি হরমুজ প্রণালী। অঞ্চলটিতে সামরিক উত্তেজনা বাড়তে থাকায় পানির নিচের নজরদারি, মাইন শনাক্তকরণ এবং স্বয়ংক্রিয় সামুদ্রিক যান ব্যবহারের বিষয়টি ক্রমেই গুরুত্ব পাচ্ছে।
তবে নতুন REMUS 600 নিয়ে ইরানের হাতে ড্রোনটি জব্দ হওয়ার দাবি এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত নয়। ফলে এটি মার্কিন সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত কোনো যান ছিল কি না, কীভাবে সেটি ইরানের উপকূলে পৌঁছেছে এবং এর ভেতরে কোনো সংবেদনশীল তথ্য ছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর নিশ্চিতভাবে পাওয়া যায়নি।








