‘যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা নেই’, যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নিয়ে মাসুদ পেজেশকিয়ান

পূর্ববর্তী আলোচনার পরও সামরিক হামলা ও নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘটনা ঘটায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় আর আস্থা রাখতে পারছে না ইরান—এমন মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তবে একই সময়ে চলমান যুদ্ধের অবসানে তেহরানের পাঠানো সর্বশেষ প্রস্তাবের বিষয়ে ওয়াশিংটনের আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে ইরান।
বিজ্ঞাপন
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ইরানের কোনো আস্থা নেই। দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী কোনো সমঝোতা হলে সেটি কোন ভিত্তিতে হবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে বলে জানান তিনি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির মাধ্যমে প্রকাশিত প্রস্তাবটি মধ্যস্থতাকারী কাতার ও পাকিস্তানের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছেছে। এতে যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য একাধিক শর্তের কথা বলা হয়েছে।
ইরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং জব্দ করা ইরানি সম্পদ ছাড় করার মতো পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি লেবানন ও ইয়েমেনসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার বিষয়টিও প্রস্তাবে রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এর বিনিময়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি সাত দিনের মধ্যে পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি পরিবহনের এই জলপথটি সাম্প্রতিক সংঘাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
পেজেশকিয়ান হরমুজ প্রণালি বন্ধের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপকে দায়ী করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের ওপর সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হওয়ার পর জলপথটি বন্ধ করা তেহরানের আত্মরক্ষামূলক প্রতিক্রিয়া ছিল। তিনি বলেন, শক্তি প্রয়োগের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধান করা সম্ভব।
ইরানি প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের অবসান হলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি দ্রুত খুলে দেওয়া হবে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাম্প্রতিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে জানিয়েছে একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে ইরানের দেওয়া প্রস্তাব তিনি গ্রহণ করেননি।
তবে ইরান এখনো মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে। একই সঙ্গে তেহরান জানিয়েছে, আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের পথ এখনো খোলা আছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের সমালোচনা করে পেজেশকিয়ান বলেন, ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে দ্রুত ভেঙে ফেলা সম্ভব—এমন ধারণা থেকে দেশ দুটির পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সামরিক কমান্ডার হত্যা বা অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করেও ইরানকে নত করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।








