জাতিসংঘকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানানো বন্ধের আহ্বান আরাগচির

জাতিসংঘের প্রতি আস্থা পুনরুদ্ধারে সংস্থাটির সনদের নীতি ও লক্ষ্যসমূহ সমুন্নত রাখার ওপর জোর দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। একই সঙ্গে জাতিসংঘকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা বন্ধ এবং গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধে জড়িতদের দায়মুক্তির অবসানের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন আরাগচি। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ড. খলিলুর রহমানই ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি।
বৈঠকের শুরুতে সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। জাতিসংঘ সনদের নীতি ও লক্ষ্য বাস্তবায়নে সাধারণ পরিষদের সভাপতির সক্রিয় ভূমিকার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
আরাগচি আশা প্রকাশ করেন, খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে সাধারণ পরিষদের কার্যক্রম ‘পেশাদার, ভারসাম্যপূর্ণ ও দায়িত্বশীল’ দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে পরিচালিত হবে।
বিজ্ঞাপন
৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য ‘জাতিসংঘের প্রতি আস্থা পুনরুদ্ধার’-এর প্রসঙ্গ তুলে আরাগচি বলেন, বিশ্ব সংস্থাটির প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে জাতিসংঘ সনদের মৌলিক নীতির লঙ্ঘন বন্ধ করতে হবে। বিশেষ করে জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান এবং সনদের ২ নম্বর অনুচ্ছেদে বর্ণিত বলপ্রয়োগ নিষিদ্ধের নীতি নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা বন্ধেরও আহ্বান জানান আরাগচি। পাশাপাশি গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধে জড়িতদের দায়মুক্তির অবসানের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি।
ইসরায়েলি সরকারের বিরুদ্ধে আগ্রাসন, গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বানও জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এসব অভিযোগ ইরানের বক্তব্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ার শান্তি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও খলিলুর রহমানকে অবহিত করেন আরাগচি। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের বিষয়ে নিজের দেশের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।
আরাগচির দাবি, পারমাণবিক আলোচনা চলার সময় ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পেছনে ‘জোর-জবরদস্তি ও আধিপত্যবাদী আচরণ’ ছাড়া কোনো যৌক্তিকতা নেই। নৌ-অবরোধ ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন উপায়ে এই চাপ অব্যাহত রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্যও তিনি একই ধরনের ‘আগ্রাসী ও হস্তক্ষেপমূলক কর্মকাণ্ডকে’ দায়ী করেন।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে, বৈঠক নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন সাধারণ পরিষদের সভাপতি খলিলুর রহমান। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সব সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।








