ভারতের কলকাতায় হিন্দুত্ববাদীদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েতের (এবিজিপি) সদস্যদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার দুপুরে ক্যাম্পাসের একটি অডিটোরিয়াম ভাড়া দেওয়া নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে।
বিজ্ঞাপন
প্রতিষ্ঠানটির অডিটোরিয়াম একটি অনুষ্ঠানের জন্য এবিজিপিকে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের একাংশ আপত্তি জানালে প্রথমে স্লোগান-পাল্টা স্লোগান ও বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা হাতাহাতিতে গড়ায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। তবে ঘটনার শুরু নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য পরস্পরবিরোধী।
ফিল্ম ইনস্টিটিউটের সাউন্ড বিভাগের শিক্ষার্থী সোহম পাল বিবিসিকে বলেন, ক্যাম্পাসের ওই অংশ ভাড়া দেওয়ার বিষয়টি তারা আগে জানতেন না। তার দাবি, সাধারণত ক্যাম্পাসের কোনো জায়গা অনুষ্ঠান বা শুটিংয়ের জন্য ভাড়া দেওয়া হলে শিক্ষার্থীদের জানানো হয়।
অন্যদিকে এবিজিপির আয়োজকদের দাবি, কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই শিক্ষার্থীদের একটি অংশ তাদের ওপর হামলা করে। সংগঠনটির রাজ্য সভাপতি পঙ্কজ রায় বলেন, কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই ১৫ হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে তারা সভা করছিলেন। তার অভিযোগ, সভা বানচালের চেষ্টা করা হয় এবং ভারতমাতা ও স্বামী বিবেকানন্দের ছবি ছিঁড়ে ফেলা হয়।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তবে শিক্ষার্থীরা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। শিক্ষার্থী মেঘরাজ রাও আনন্দবাজারকে বলেন, অডিটোরিয়ামে তাদের প্র্যাকটিক্যাল ক্লাস হয়। সেখানে বাইরে থেকে লোক এনে সভা করার প্রতিবাদ জানিয়ে তারা পোস্টার লাগান। এরপর সংগঠনটির সদস্যরা তাদের ওপর হামলা করেন বলে তার অভিযোগ।
মেঘরাজের দাবি, কয়েকজন শিক্ষার্থীকে চড়-ঘুষি মারা হয় এবং তারা হোস্টেলের দিকে চলে যান। একই ধরনের অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির এক অধ্যাপকও। তার ভাষ্য, শিক্ষার্থীদের মারধর হতে দেখে তিনি এগিয়ে গেলে তাকেও হামলার মুখে পড়তে হয়।
শিক্ষার্থীদের আরও অভিযোগ, হামলার সময় তাদের ‘বাংলাদেশি’, ‘দেশদ্রোহী’ ও ‘পাকিস্তানি’ বলে আক্রমণ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এবিজিপির পক্ষ থেকে পৃথক বক্তব্য দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এবিজিপির ওয়েবসাইটে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতার সঙ্গে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) যোগাযোগের উল্লেখ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ঘটনার পর ক্যাম্পাসে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তবে সংঘর্ষে কতজন আহত হয়েছেন বা এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।








