২০২৪ সাল থেকে জেন-জিদের ভোটার তালিকায় যুক্ত করছে না ভারত

ভারতে ২০২৬-২৭ সালের বার্ষিক ভোটার তালিকা হালনাগাদ বা Summary Revision (SSR) প্রক্রিয়া নির্ধারিত সময়ে শুরু হয়নি। এর ফলে নতুন ১৮ বছর বয়সী ভোটারদের নিয়মিতভাবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে দ্য ইকোনমিক টাইমস।
বিজ্ঞাপন
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের চক্রের পর দেশজুড়ে নিয়মিত বার্ষিক SSR পুনরায় শুরু হয়নি। ২০২৫ সালে বিহারে Special Intensive Revision (SIR) শুরু হওয়ার পর বিষয়টি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশী নিয়মিত SSR পুনরায় চালুর প্রয়োজনীয়তার পক্ষে মত দিয়েছেন।
ভারতের নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, ভোটার তালিকার বার্ষিক Summary Revision সাধারণত ১ জানুয়ারিকে যোগ্যতার তারিখ ধরে পরিচালিত হয়। একই সঙ্গে ১ এপ্রিল, ১ জুলাই ও ১ অক্টোবর—এই তিনটি অতিরিক্ত যোগ্যতার তারিখও রয়েছে। এসব তারিখে ১৮ বছর পূর্ণ করা যোগ্য নাগরিকরা ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে পারেন।
বার্ষিক হালনাগাদ প্রক্রিয়ায় নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তির পাশাপাশি বিদ্যমান ভোটারদের তথ্যের ভুল, অসংগতি ও অন্যান্য অমিলও যাচাই করা হয়। ইকোনমিক টাইমস জানিয়েছে, ২০২৬-২৭ সালের SSR সাধারণত মে মাসের শেষ বা জুনের শুরুতে ঘোষণা হওয়ার কথা থাকলেও এবার তা নির্ধারিত সময়ে শুরু হয়নি।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এদিকে বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যের খবর প্রকাশিত হলেও কমিশন জানিয়েছে, গত এক বছরে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো পূর্ণ কমিশনের সম্মতিতেই নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, নিয়মিত SSR স্থগিত থাকার অর্থ এই নয় যে এ সময়ে নতুন ভোটার একেবারেই তালিকায় যুক্ত হয়নি। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৪ জুন থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৮ থেকে ২৮ বছর বয়সী ৩.২৭ কোটির বেশি নতুন ভোটার ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়েছেন।
তবে ২০২৬-২৭ সালের বার্ষিক SSR শুরু না হওয়ায় আগামী সময়ে নতুন ভোটারদের অন্তর্ভুক্তি ও ভোটার তালিকার নিয়মিত হালনাগাদ প্রক্রিয়া কীভাবে এগোবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৭ সালে যেসব রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে, সেখানে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিজ্ঞাপন
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পরিস্থিতির প্রভাব নির্বাচন কমিশনের প্রশাসনিক কাজেও পড়েছে। প্রায় ৫০ জন কর্মকর্তা ও উপ-নির্বাচন কমিশনারের বার্ষিক কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন প্রতিবেদন আটকে থাকার কথাও জানিয়েছে দ্য ইকোনমিক টাইমস।








