আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিবেকের পরীক্ষা ফিলিস্তিন: ইন্দোনেশিয়া

ফিলিস্তিন ইস্যুকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিবেকের পরীক্ষা হিসেবে উল্লেখ করেছে ইন্দোনেশিয়া। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুগিওনো বলেছেন, ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের পাশে থাকবে জাকার্তা।
বিজ্ঞাপন
শনিবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে সুগিওনো বলেন, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখানো এবং ঔপনিবেশিকতার অবসান ঘটানো জরুরি।
তিনি বলেন, গাজা ও পশ্চিম তীরে আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো ১৯৪৫ সালের আগের বিশ্বের কথা মনে করিয়ে দেয়। সে সময় জাতিসংঘ সনদ, মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণা ও জেনেভা কনভেনশন কার্যকর ছিল না।
ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তার দেশও ঔপনিবেশিকতার বিরুদ্ধে দীর্ঘ সংগ্রাম করেছে। দুর্বল আন্তর্জাতিক আইন এবং শক্তিশালী পক্ষের ইচ্ছাই যেখানে প্রাধান্য পেত, সেই অভিজ্ঞতা থেকেই ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার প্রশ্নে ইন্দোনেশিয়ার অবস্থান তৈরি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
সুগিওনো বলেন, ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং আন্তর্জাতিক আইন ও স্বীকৃত নীতির ভিত্তিতে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের মাধ্যমে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়া তাদের পাশে থাকবে।
তিনি বলেন, ফিলিস্তিন কেবল একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের বিষয় নয়। এর মাধ্যমে যাচাই হবে, বহুপক্ষীয় আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সময় নির্ধারিত নীতিগুলো রক্ষা করতে পারে কি না এবং সংকটের মুহূর্তে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম কি না।
জাতিসংঘের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন সুগিওনো। তার ভাষায়, অসম্পূর্ণ বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সমাধান কম বহুপক্ষীয়তা নয়; বরং আরও শক্তিশালী ও কার্যকর বহুপক্ষীয় ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, একবিংশ শতাব্দীর উপযোগী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে আরও প্রতিনিধিত্বশীল, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম এবং কার্যকর হতে হবে।
এ সময় ২০২৯-৩০ মেয়াদে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য পদে ইন্দোনেশিয়ার প্রার্থিতার কথাও ঘোষণা করেন তিনি। সুগিওনো বলেন, ঐক্য জোরদার, শান্তি এগিয়ে নেওয়া, সংলাপ অব্যাহত রাখা এবং বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সমঝোতা তৈরিতে কাজ করবে ইন্দোনেশিয়া।
আসিয়ান, জি২০, ডি-৮, ব্রিকস ও মিকতার মতো আন্তর্জাতিক জোটের মাধ্যমেও এসব নীতি বাস্তবায়নে কাজ করছে বলে জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
লেবাননে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে ইন্দোনেশিয়ার দীর্ঘদিনের অংশগ্রহণের কথাও উল্লেখ করেন সুগিওনো। তিনি বলেন, জাতিসংঘের অন্তর্বর্তী বাহিনী ইউনিফিলের কার্যক্রম শেষ হওয়ার পথে থাকলেও মিশন শেষ হওয়ার সঙ্গে ইন্দোনেশিয়ার প্রতিশ্রুতিও শেষ হবে না।
দেশের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং অর্থনৈতিক শক্তিকে গুরুত্ব দিয়ে জনগণকে কেন্দ্র করে ইন্দোনেশিয়ার সক্ষমতা ও স্থিতিশীলতা গড়ে তোলা হচ্ছে।








