ইরানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশসহ ১৪ দেশের জোট, কমান্ডার নিয়োগ দিল সৌদি

বাব এল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশকে নিয়ে সৌদি আরবের উদ্যোগে গঠিত প্রতিরক্ষা জোটের প্রধান কমান্ডার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সৌদি নৌবাহিনীর রিয়ার অ্যাডমিরাল আবদুল্লাহ বিন সালেম আল-শেহরিকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জোটের প্রধান কমান্ডার হিসেবে রিয়ার অ্যাডমিরাল আবদুল্লাহ বিন সালেম আল-শেহরি প্রতিরক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। পাশাপাশি সদস্য দেশগুলোর সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট জোটের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের দায়িত্বও পালন করবেন তিনি। জোটের বিভিন্ন অভিযান পরিচালনার দায়িত্বও থাকবে তার ওপর।
গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি ইরানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে লোহিত সাগরের বাণিজ্যিক নৌপথে অবরোধ আরোপ করে ইয়েমেনভিত্তিক সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী হুথি। লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগর ও ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা বাব এল-মান্দেব প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ থেকে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেল পরিবহনের ক্ষেত্রেও হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি লোহিত সাগর ও বাব এল-মান্দেবের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তেহরান হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরোপ করে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানিকারক দেশগুলো বিকল্প নৌপথ হিসেবে লোহিত সাগরের বাণিজ্যপথের ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।
সৌদি আরবের জন্য বাব এল-মান্দেব প্রণালির কৌশলগত গুরুত্বের আরেকটি কারণ হলো, দেশটির গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর ইয়ানাবু এই জলপথের কাছাকাছি অবস্থিত। জুলাইয়ের শেষ দিকে ইয়ানাবু বন্দরে ড্রোন হামলা চালায় হুথি গোষ্ঠী।
ওই হামলার পরই নতুন প্রতিরক্ষা জোট গঠনের উদ্যোগ নেয় রিয়াদ। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে সৌদি আরবের মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে প্রায় ৬০টি দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এর মধ্যে ১৪টি দেশ জোটে যুক্ত হওয়ার সম্মতি দেয়।
বিজ্ঞাপন
জোটের সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—বাহরাইন, বাংলাদেশ, কোমোরোস, জিবুতি, মিসর, জর্ডান, কুয়েত, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, সোমালিয়া, সুদান, তুরস্ক ও ইয়েমেন। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আরও কয়েকটি দেশ এই জোটে যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
বাংলাদেশের পশ্চিমমুখী রপ্তানি বাণিজ্যের বড় একটি অংশ, বিশেষ করে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পাঠানো পণ্য, লোহিত সাগর ও আশপাশের নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এই নৌপথের নিরাপত্তা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের স্বাধীনতার সঙ্গেও গুরুত্বপূর্ণভাবে জড়িত।
সূত্র: আলজাজিরা








