সাপ ধরলেই মিলবে ১২ লাখ টাকা!

ফ্লোরিডার জলাভূমিতে ভয়ংকর বার্মিজ অজগর ধরার প্রতিযোগিতায় এবার ৯৬টি সাপ ধরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন টম রাহিল। এ জন্য তিনি পেয়েছেন ১০ হাজার মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার মূল্য ১২ লাখ টাকারও বেশি।
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের এভারগ্লেডস জাতীয় উদ্যানে প্রতিবছর আয়োজন করা হয় ‘ফ্লোরিডা পাইথন চ্যালেঞ্জ’। চলতি বছরের ১০ দিনের প্রতিযোগিতায় জয়ী হয়েছেন পেশায় পাইথন শিকারি টম রাহিল।
ঘন জলাভূমি, কাদা, ঘাস আর অন্ধকার পানিপথ পেরিয়ে টানা ১০ দিন অজগর ধরার অভিযানে অংশ নেন প্রতিযোগীরা। এ বছর যুক্তরাষ্ট্রের ৩০টি অঙ্গরাজ্যের পাশাপাশি কানাডা ও ভিয়েতনাম থেকে মোট ৯০৭ জন এতে অংশ নেন।
ফ্লোরিডার ব্রাওয়ার্ড কাউন্টিতে ‘সোয়াম্পএপস’ নামে একটি সংগঠন পরিচালনা করেন রাহিল। সংগঠনটির মাধ্যমে পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডারে (পিটিএসডি) আক্রান্ত সাবেক সেনাসদস্যদের নিয়ে জলাভূমিতে পাইথন ধরার অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
রাহিল জানান, এক সাবেক সেনাসদস্যকে একটি বড় অজগর ধরতে সহায়তা করার লক্ষ্য নিয়ে তিনি এবারের অভিযানে নেমেছিলেন। সেই লক্ষ্য পূরণের পর আরও গভীরে গিয়ে অভিযান চালান তিনি। সেখান থেকেই একে একে ৯৬টি বার্মিজ অজগর ধরতে সক্ষম হন।
জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত ১০ দিনের প্রতিযোগিতায় সব প্রতিযোগী মিলে মোট ২৮০টি বার্মিজ অজগর অপসারণ করেন। প্রতিযোগিতা শুরুর আগেই চলতি বছর প্রায় ১ হাজার ৪০০টি অজগর সরানো হয়েছিল।
বিজ্ঞাপন
সবচেয়ে বড় অজগর ধরার জন্যও আলাদা পুরস্কারের ব্যবস্থা ছিল। এবার ১৬ ফুট ৫ ইঞ্চি লম্বা একটি অজগর ধরে ১ হাজার মার্কিন ডলার পুরস্কার পেয়েছেন রাহম লেভিনসন।
কেন আতঙ্কের কারণ বার্মিজ অজগর?
বার্মিজ অজগরের আদি নিবাস দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া। ১৯৯০-এর দশকে প্রথম ফ্লোরিডার এভারগ্লেডস এলাকায় এই প্রজাতির সাপের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। এরপর থেকে স্থানীয় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য এটি বড় হুমকি হয়ে উঠেছে।
বিজ্ঞাপন
বার্মিজ অজগর স্থানীয় স্তন্যপায়ী প্রাণী, পাখি ও অন্যান্য বন্যপ্রাণী শিকার করে। এর ফলে খাদ্যশৃঙ্খলে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এভারগ্লেডসে বর্তমানে কয়েক হাজার বার্মিজ অজগর রয়েছে।
একটি স্ত্রী অজগর বছরে প্রায় ১০০টি পর্যন্ত ডিম দিতে পারে। ফলে অনুকূল পরিবেশে এদের সংখ্যা দ্রুত বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সচেতনতা ও সংরক্ষণে উদ্যোগ
বিজ্ঞাপন
ফ্লোরিডা পাইথন চ্যালেঞ্জের লক্ষ্য শুধু অজগর অপসারণ নয়। আগ্রাসী প্রজাতির প্রাণী সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানো এবং এভারগ্লেডসের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করাও এই আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
২০১৭ সাল থেকে এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ১ হাজার ৬০০টির বেশি বার্মিজ অজগর অপসারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ফ্লোরিডা ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন কমিশনের ঠিকাদারদের বছরজুড়ে পরিচালিত অভিযানের হিসাব ধরলে ২০১৭ সালের পর থেকে ১৯ হাজারের বেশি অজগর সরানো হয়েছে।
কমিশনের কর্মসূচি সমন্বয়কারী সারাহ ফাঙ্ক বলেন, ফ্লোরিডার অজগর সমস্যা সমাধানের কোনো একক পদ্ধতি নেই। তবে একটি অজগরও অপসারণ করা স্থানীয় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান








