Logo

২ মিনিটে ৫ বার সাপের ছোবল, তবুও অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেন নারী

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৩ আগস্ট, ২০২৬, ১৮:২০
২ মিনিটে ৫ বার সাপের ছোবল, তবুও অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেন নারী
ছবি: সংগৃহীত

সাপের কামড়ের পরও অনেক এলাকায় হাসপাতালে নেওয়ার বদলে ঝাড়ফুঁক বা ওঝার কাছে যাওয়ার প্রবণতা রয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, এ ধরনের বিলম্ব অনেক সময় রোগীর জীবনকে আরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলে। ভারতের মধ্যপ্রদেশে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাও সেই বাস্তবতাই সামনে এনেছে।

বিজ্ঞাপন

মধ্যপ্রদেশের নর্মদাপুরম জেলার ঝিল পিপারিয়া গ্রামের বাসিন্দা রাধাবাই আহিরওয়ারকে মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে একটি সাপ পাঁচবার ছোবল দেয়। ঘটনার পর প্রথমে তাকে হাসপাতালে না নিয়ে ঝাড়ফুঁকের জন্য নেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

চিকিৎসকদের নিবিড় চিকিৎসায় প্রাণে বেঁচে যান রাধাবাই। প্রথম ৪০ মিনিটে তাকে ১০টি এবং পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় মোট ৩৫টি ইনজেকশন দেওয়া হয়। বিষের প্রভাবে ফুলে যাওয়া হাতের একটি আঙুলে অস্ত্রোপচারও করতে হয়। বর্তমানে সুস্থ হয়ে তিনি জেলা হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

ঘটনার প্রায় ২০ দিন পর রাধাবাইয়ের গ্রামে গিয়ে তার সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিস্তারিত জানা যায়।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

রাধাবাই জানান, গত ১৩ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রান্না শেষে তিনি রান্নাঘর পরিষ্কার করছিলেন। এ সময় আলমারিতে রাখা বাসনপত্রের মধ্যে প্রায় পাঁচ ফুট লম্বা একটি কালো সাপ দেখতে পান।

কিছু বুঝে ওঠার আগেই সাপটি তার ডান হাতের তালুতে প্রথম ছোবল দেয়। হাত ঝাঁকিয়ে সাপটিকে সরানোর চেষ্টা করলে সেটি আবারও আক্রমণ করে। এভাবে প্রায় দেড় থেকে দুই মিনিটের মধ্যে তার হাত ও তালুতে মোট পাঁচবার ছোবল দেয় সাপটি। একপর্যায়ে রাধাবাই অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে যান।

বিজ্ঞাপন

প্রথমে হাসপাতালে নয়, নেওয়া হয় ওঝার কাছে

রাধাবাইয়ের স্বামী সুখরাম আহিরওয়ার জানান, সাপে কাটার পর তাকে সরাসরি হাসপাতালে না নিয়ে প্রথমে গ্রামের এক ওঝার কাছে নেওয়া হয়। দুপুর ১টার দিকে সেখানে পৌঁছানোর পর ওঝা জানিয়ে দেন, তিনি কোনো চিকিৎসা করতে পারবেন না।

এরই মধ্যে রাধাবাইয়ের শরীরে বিষের প্রভাব বাড়তে থাকে। তার চোখ ভারী হয়ে আসে এবং শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। পরে পরিবারের সদস্যরা দুপুর ২টা ১০ মিনিটের দিকে তাকে পিপারিয়া সিভিল হাসপাতালে নিয়ে যান।

বিজ্ঞাপন

হাসপাতালের ডিউটি চিকিৎসক দেবেন্দ্র ঠাকুর জানান, রাধাবাইকে হাসপাতালে আনার সময় তার চোখ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল এবং শরীরে দ্রুত বিষ ছড়িয়ে পড়ছিল। একই সঙ্গে তার শ্বাসকষ্টও হচ্ছিল।

অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকরা দ্রুত অ্যান্টি-স্নেক ভেনম (এএসভি) প্রয়োগ শুরু করেন। প্রথম ৪০ মিনিটে তাকে ১০টি ইনজেকশন দেওয়া হয়। পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় মোট ৩৫টি ইনজেকশন দেওয়া হয়। এর মধ্যে ২৫টি ছিল অ্যান্টি-স্নেক ভেনম এবং ১০টি অ্যাট্রোপিন।

চিকিৎসার পর ধীরে ধীরে রাধাবাইয়ের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়। তবে বিষের প্রভাবে তার হাতের একটি আঙুল ফুলে যাওয়ায় তাকে পরে জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চিকিৎসা সম্পন্ন করা হয়।

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে রাধাবাই সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD