জাপানে ঘূর্ণিঝড় টাইফুন দুজুয়ানের তাণ্ডব, ১৯ লাখ মানুষকে সরানোর নির্দেশ

শক্তিশালী টাইফুন ‘দুজুয়ান’-এর প্রভাবে জাপানের পূর্বাঞ্চলে ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাস অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার প্রায় ১৯ লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকটি এলাকায় রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে এবং বাড়ছে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা।
বিজ্ঞাপন
জাপানের আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) জানিয়েছে, টাইফুনটি সরাসরি স্থলভাগে আঘাত না করলেও এর প্রভাবে পূর্ব জাপানের বিস্তীর্ণ এলাকায় দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কান্টো অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি শক্তিশালী বাতাসের সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
টাইফুন দুজুয়ানের প্রভাবে ইজু দ্বীপপুঞ্জ ও জাপানের প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের কিছু এলাকায় শনিবার থেকে ৩০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। ইজু দ্বীপপুঞ্জের ওশিমা শহরে ভূমিধসের সর্বোচ্চ মাত্রার জরুরি সতর্কতাও জারি করা হয়েছে।
জেএমএর পূর্বাভাস অনুযায়ী, টাইফুনটি টোকিওসহ কান্টো অঞ্চলের কাছাকাছি দিয়ে অতিক্রম করতে পারে। ফলে সোমবার বিকেল থেকে বৃষ্টিপাত আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ‘লিনিয়ার রেইনব্যান্ড’ তৈরি হলে কয়েক ঘণ্টা ধরে নির্দিষ্ট এলাকায় অস্বাভাবিক মাত্রায় বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে।
বিজ্ঞাপন
ইতোমধ্যে ভারী বৃষ্টির কারণে জাপানের বিভিন্ন এলাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। কয়েকটি স্থানে ভূমিধস ও ধ্বংসাবশেষের ঘটনায় উদ্ধার তৎপরতা চালানো হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকা, নদীর তীর ও নিচু অঞ্চল থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
টাইফুনের প্রভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহও ব্যাহত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় হাজার হাজার পরিবার বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছে বলে স্থানীয়ভাবে জানানো হয়েছে।
দুজুয়ানের প্রভাবে ক্রীড়াক্ষেত্রেও প্রভাব পড়েছে। জাপানের আইচি প্রিফেকচারে চলমান এশিয়ান গেমসের অশ্বারোহী প্রতিযোগিতা খারাপ আবহাওয়ার কারণে এক দিন পিছিয়ে মঙ্গলবার করা হয়েছে। ঝড়ের কারণে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার যাত্রাও চার ঘণ্টা পিছিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, টাইফুনটি সরাসরি জাপানের স্থলভাগে আঘাত না করলেও এর সঙ্গে থাকা বিশাল বৃষ্টিবাহী মেঘ পূর্বাঞ্চলে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। তাই ঝড়টি উপকূল থেকে দূরে সরে না যাওয়া পর্যন্ত বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলতে এবং ভূমিধসপ্রবণ এলাকা ও নদীর কাছাকাছি অবস্থান না করার পরামর্শ দিয়েছে। ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি নদীর পানি বৃদ্ধি ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকিও রয়েছে।








