গাজা যুদ্ধ ও পশ্চিম তীর নিয়ে জাতিসংঘে চাপের মুখে ইসরায়েল

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে গাজা যুদ্ধ ও পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি নিয়ে ইসরায়েলের নীতির কঠোর সমালোচনা করেছেন বিভিন্ন দেশের নেতারা। এর পাশাপাশি ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা, গাজায় মানবিক পরিস্থিতি এবং পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপও জোরালো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ৭ অক্টোবর ২০২৩ সালের হামাসের হামলার নিন্দা জানানোর পাশাপাশি গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ ও বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতা দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকে আরও সংকুচিত করছে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন।
বিশ্বনেতাদের সমালোচনা
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান জাতিসংঘে গাজার মানবিক পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করেন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আরও ব্যাপকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। যুক্তরাজ্য ও কানাডার নেতারাও ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহ দ্বিতীয়ও গাজা ও পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি নিয়ে ইসরায়েলের নীতির সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জাতিসংঘে ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডের পক্ষে অবস্থান তুলে ধরার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন।
বসতি পণ্যে বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ
বিজ্ঞাপন
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি থেকে আসা পণ্যের বাণিজ্য নিয়েও একাধিক দেশ পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
৮ সেপ্টেম্বর কানাডা, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, স্পেন, সুইডেন ও যুক্তরাজ্য—এই ১২ দেশ যৌথ বিবৃতিতে বসতি থেকে আসা পণ্যের ওপর জাতীয়ভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা ইউরোপীয় পর্যায়ে বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ সমর্থনের পরিকল্পনা জানায়।
যুক্তরাজ্য ইতোমধ্যে অধিকৃত পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছে। ফ্রান্স, কানাডাসহ অন্য দেশগুলোও বসতি-সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য সীমিত করার পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের নতুন বসতি সম্প্রসারণ পরিকল্পনা নিয়েও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে ই-১ এলাকায় নতুন আবাসন নির্মাণের পরিকল্পনাকে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনার জন্য বড় বাধা হিসেবে দেখছে জাতিসংঘ ও কয়েকটি দেশ।
সব মিলিয়ে গাজা যুদ্ধ, পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে জাতিসংঘের এবারের অধিবেশনে ইসরায়েলকে ঘিরে কূটনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।








