Logo

স্বামীকে শেষ করতে প্রেমিকের সঙ্গে স্ত্রীর ভয়ংকর ছক, অতঃপর...

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৮ আগস্ট, ২০২৬, ২১:৪৫
স্বামীকে শেষ করতে প্রেমিকের সঙ্গে স্ত্রীর ভয়ংকর ছক, অতঃপর...
ছবি: সংগৃহীত

দুপুরের খাবার খেতে হঠাৎ বাড়িতে ফিরেছিলেন স্বামী। তবে ঘরের দরজা খুলতেই পায়ের তলার মাটি সরে যাওয়ার উপক্রম হয় তার। ভেতরে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে স্ত্রীর সঙ্গে অন্য এক যুবকের আপত্তিকর অবস্থার দৃশ্য। আর এর ফলে যা ঘটতে থাকে তার সঙ্গে, তা যেন থ্রিলার সিনেমাকেও হার মানায়!

বিজ্ঞাপন

স্বামীকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিতে ওই যুবকের সঙ্গে মিলে ভয়ংকর পরিকল্পনা করেছিলেন স্ত্রী। পরে স্ত্রীর গোপন বার্তালাপ হাতে আসার পর নিজের জীবন নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন ওই ব্যক্তি।

চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের। মহাবুবাবাদ জেলার চিলকোডু গ্রামের বাসিন্দা গাড়ে রাজেশ্বর রাও খাম্মামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চাকরি করেন। ২০১৬ সালে ভবানীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে রয়েছে দুই সন্তান।

পুলিশের কাছে দেওয়া অভিযোগে রাজেশ্বর জানান, গত ২৭ জুলাই দুপুরে হঠাৎ বাড়ি ফেরেন তিনি। ঘরে দরজা খুলে ঢুকতেই স্ত্রী ভবানীকে অন্য এক যুবকের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলেন তিনি। ওই যুবকের নাম সাইদুল, পেশায় একজন কুরিয়ার ডেলিভারি এক্সিকিউটিভ।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

পরদিন বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মুরব্বিদের নিয়ে একটি গ্রাম্য সালিশি সভা বসেছিল। সালিশি সভার পরদিন থেকেই পরিস্থিতি হয়ে ওঠে ভয়ংকর। দুর্ঘটনার নাটক সাজিয়ে স্বামী রাজেশ্বরকে হত্যার ছক কষেন ভবানী।

রাজেশ্বর যখন অন্য একটি গ্রামে তার বড় ভাইকে আনতে যাচ্ছিলেন, তখন তার পিছু নেয় ভবানীর পরকীয়া প্রেমিক সাইদুল। কোনোমতে সেদিন প্রাণে বেঁচে যান রাজেশ্বর।

পরে স্ত্রীর মোবাইল ফোন হাতে নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রাম চ্যাট পরীক্ষা করেন তিনি। আর সেখানেই বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। চ্যাট রেকর্ডে দেখা যায়, প্রেমিক সাইদুলকে ভবানী স্পষ্ট ভাষায় বলছেন, ‘আমার স্বামীকে সড়ক দুর্ঘটনায় হত্যা করো, নাহলে আমি আত্মহত্যা করব।’

বিজ্ঞাপন

ঘরের বাইরে নিয়ে গিয়ে রাজেশ্বরকে খুন করে ঘটনাটিকে সাধারণ দুর্ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছিলেন ভবানী।

স্ত্রীর এমন ভয়ংকর পরিকল্পনার তথ্য জানার পর রাজেশ্বর দ্রুত ওই বার্তালাপের বিভিন্ন অংশের ছবি সংরক্ষণ করেন। এরপর নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কার কথা জানিয়ে গত ১ আগস্ট ডোরনাকাল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন তিনি।

পুলিশ অভিযোগটি গ্রহণ করে জিরো এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত করে এবং পরবর্তীতে তা খাম্মাম গ্রামীণ থানায় স্থানান্তরিত করে। তবে, তদন্তের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় পরবর্তীতে রাজেশ্বর খাম্মাম গ্রামীণ থানায় আবারও যোগাযোগ করেন এবং দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানান।

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে পুলিশ ভবানীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বার্তালাপ ও সংশ্লিষ্ট তথ্যগুলো খতিয়ে দেখছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও সম্ভাব্য প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে। প্রাথমিক তদন্ত শেষ হওয়ার পর ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হলে সে অনুযায়ী পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD