Logo

বিতর্কিত কুরিল দ্বীপে পুতিন, জাপানের কড়া প্রতিবাদ

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৩ আগস্ট, ২০২৬, ২০:৪৪
বিতর্কিত কুরিল দ্বীপে পুতিন, জাপানের কড়া প্রতিবাদ
ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন প্রথমবারের মতো বিতর্কিত কুরিল দ্বীপপুঞ্জের একটি দ্বীপ সফর করেছেন। তার এই সফরের তীব্র বিরোধিতা জানিয়েছে জাপান। দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেছেন, পুতিনের এই সফর ‘একেবারেই অগ্রহণযোগ্য’। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

রুশ রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পুতিন ইতুরুপ দ্বীপ পরিদর্শন করেছেন। জাপানে দ্বীপটি এতোরোফু নামে পরিচিত। কুরিল দ্বীপপুঞ্জের চারটি দ্বীপের মালিকানা নিয়ে রাশিয়া ও জাপানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি বলেন, পুতিনের এই সফর রাশিয়ার প্রতি জাপানিদের মনোভাবকে আরও নেতিবাচক করেছে। তার দাবি, বিতর্কিত দ্বীপগুলো ‘ঐতিহাসিকভাবে এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে জাপানের ভূখণ্ড’।

কুরিল দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে মস্কো ও টোকিওর বিরোধ কয়েক দশকের পুরোনো। এই ভূখণ্ডগত বিরোধের কারণে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দুই দেশ এখনো আনুষ্ঠানিক শান্তিচুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি। উত্তর জাপানের হোক্কাইডো ও রাশিয়ার কামচাটকা উপদ্বীপের মধ্যবর্তী এলাকায় কুরিল দ্বীপপুঞ্জ অবস্থিত। এর দক্ষিণের চারটি দ্বীপের ওপর জাপান দীর্ঘদিন ধরে মালিকানা দাবি করে আসছে এবং এগুলোকে ‘উত্তরাঞ্চলীয় ভূখণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করে।

বিজ্ঞাপন

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ দিকে সোভিয়েত ইউনিয়ন দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এরপর প্রায় ১৭ হাজার জাপানিকে সেখান থেকে নির্বাসিত করা হয়। বর্তমানে দ্বীপগুলো রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সফরকালে পুতিন স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি দ্বীপের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। রুশ গণমাধ্যম জানিয়েছে, তিনি মাছের ডিমও চেখে দেখেছেন।

বিজ্ঞাপন

জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পুতিনের এই সফর জাপানি জনগণের অনুভূতিতে আঘাত করেছে এবং উত্তরাঞ্চলীয় ভূখণ্ড নিয়ে টোকিওর দীর্ঘদিনের অবস্থানের সঙ্গে এটি সাংঘর্ষিক।

এর আগে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিতসু মোতেগিও দ্বীপগুলোকে ঐতিহাসিক ও আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে জাপানের অবিচ্ছেদ্য ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করেন। একই সঙ্গে পুতিনের সফরের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে জাপান সরকার।

কুরিল দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ মেটানোর চেষ্টা খুব বেশি অগ্রগতি পায়নি। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর জাপান মস্কোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে দুই দেশের সম্পর্ক আরও শীতল হয়ে পড়ে।

বিজ্ঞাপন

এর আগেও রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিন ও সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভসহ দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিতর্কিত দ্বীপপুঞ্জ সফরের প্রতিবাদ জানিয়েছে জাপান।

কৌশলগতভাবে কুরিল দ্বীপপুঞ্জ রাশিয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত এক দশকে সেখানে সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করেছে মস্কো। বিশেষ করে ইতুরুপ দ্বীপে রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বিমানঘাঁটি রয়েছে।

সম্প্রতি চীন ও রাশিয়ার নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ যৌথ টহলের সময় কুরিল দ্বীপপুঞ্জের একটি প্রণালি অতিক্রম করে। পাশাপাশি দ্বীপগুলোর আশপাশে নিয়মিত সামরিক মহড়াও চালিয়ে আসছে রাশিয়া। এসব কর্মকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আপত্তি জানিয়ে আসছে জাপান।

বিজ্ঞাপন

সূত্র: বিবিসি

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD