ওয়েস্ট বেঙ্গল নয়, শুধু ‘পশ্চিমবঙ্গ’ নাম চায় বিজেপি

পশ্চিমবঙ্গের নাম ইংরেজিতেও ‘West Bengal’ না রেখে শুধু ‘পশ্চিমবঙ্গ’ করার দাবি জানিয়েছেন ভারতের বিজেপির রাজ্যসভার সদস্য ও পশ্চিমবঙ্গের দলীয় সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। এ দাবির পক্ষে তিনি ১৯৪৭ সালের দেশভাগের ইতিহাস তুলে ধরেছেন।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (১২ আগস্ট) রাজ্যসভায় কেরল (নাম বদল) বিল, ২০২৬ নিয়ে আলোচনার সময় কেরলের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগকে স্বাগত জানান শমীক ভট্টাচার্য। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তনের দাবিও উত্থাপন করেন তিনি।
কেরলের বাসিন্দাদের অভিনন্দন জানিয়ে বিজেপির এই নেতা বলেন, পশ্চিমবঙ্গের নামও ঐতিহাসিক পরিচয় বিবেচনায় পরিবর্তন করা উচিত। তার দাবি, ইংরেজি নাম ‘West Bengal’ বাদ দিয়ে বাংলাতেও ‘পশ্চিমবঙ্গ’ নামটিই রাখা হোক। পাশাপাশি বিহারের নাম ‘পাটলিপুত্র’ করার প্রস্তাবও দেন তিনি।
পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তনের দাবি অবশ্য নতুন নয়। এর আগে রাজ্যটির তৎকালীন ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার ‘বাংলা’ নাম করার উদ্যোগ নিয়েছিল। ২০১৮ সালের ২৬ জুলাই বিধানসভায় এ-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব পাস হয়। প্রস্তাবে বাংলা, হিন্দি ও ইংরেজি—তিন ভাষাতেই রাজ্যের নাম ‘বাংলা’ রাখার কথা বলা হয়েছিল। বাম ও কংগ্রেসের সমর্থনে প্রস্তাবটি পাস হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেটি চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এদিন তৃণমূল কংগ্রেসের ওই উদ্যোগের সমালোচনা করেন শমীক ভট্টাচার্য। তার দাবি, বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে তৃণমূল সরকার পশ্চিমবঙ্গের নাম ‘বাংলা’ করার চেষ্টা করেছিল, যার পেছনে ঐতিহাসিক ভিত্তি ছিল না।
শমীকের বক্তব্য অনুযায়ী, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ১৯৪৭ সালের ২০ জুন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের প্রতিষ্ঠা হয়। সে সময় বাঙালি হিন্দুদের জন্য পৃথক আবাসভূমির প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
বিজেপির এই নেতা বলেন, পশ্চিমবঙ্গের নাম শুধু একটি পরিচয় নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। তাই ইংরেজি নাম ‘West Bengal’ পরিবর্তন করে ‘পশ্চিমবঙ্গ’ করার দাবি জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের স্মৃতি থেকে বেরিয়ে আসার সময়ে শুধু বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে রাজ্যের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তার মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে রাজ্যের ঐতিহাসিক পরিচয় ও অতীতকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।








