ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নেই লোডশেডিং, চাহিদার চেয়েও বেশি উৎপাদন

বিদ্যুতের উৎপাদন ও সরবরাহ চাহিদার তুলনায় বেশি থাকায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে বড় ধরনের লোডশেডিং হচ্ছে না। তবে তীব্র গরমে একসঙ্গে অতিরিক্ত এসি, এয়ার কুলার ও ফ্যান চালানোর কারণে কিছু এলাকায় ট্রান্সফরমার বিকল বা ওভারলোড হয়ে সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব সমস্যা দ্রুত সমাধান করে স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পর্যাপ্ত সক্ষমতা রয়েছে। তবে তীব্র গরম কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় নেটওয়ার্কে ত্রুটি বা কারিগরি সমস্যার কারণে কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হতে পারে। এসব ঘটনা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে না।
সরকারের দাবি, রাজ্যে পর্যাপ্ত কয়লা সরবরাহ থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদনও নিয়মিত রাখা সম্ভব হচ্ছে। বক্কেশ্বর, সাঁওতালডিহি এবং পুরুলিয়া পাম্পড স্টোরেজ প্রকল্পসহ নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হওয়ায় রাজ্যের নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা বেড়েছে। ফলে চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় মূলত দুটি সংস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। একটি রাজ্য বিদ্যুৎ পর্ষদ এবং অন্যটি ক্যালকাটা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কর্পোরেশন (সিইএসসি)।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
রাজ্য বিদ্যুৎ পর্ষদ সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে মূলত গ্রামাঞ্চল এবং কলকাতার আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। অন্যদিকে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছে সিইএসসি।
উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা বর্তমানে চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকায় বড় ধরনের লোডশেডিংয়ের প্রয়োজন হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।
বিজ্ঞাপন
রাজ্য বিদ্যুৎ পর্ষদের এক কর্মকর্তার মতে, বিভিন্ন শহরাঞ্চলে বিদ্যুৎ চুরি এখনো একটি সমস্যা। বিদ্যুৎ চুরি বন্ধ করা সম্ভব হলে সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ কমবে। একই সঙ্গে ছোটখাটো বিদ্যুৎ সমস্যারও অনেকটা সমাধান করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তিনি।
পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়ন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদাও আরও বাড়বে বলে মনে করছে রাজ্য সরকার। ভবিষ্যতের এই বাড়তি চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে নতুন কয়েকটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিট স্থাপনের প্রস্তাব নেওয়া হয়েছে।
সরকারের ধারণা, এসব নতুন ইউনিট চালু হলে ভবিষ্যতে রাজ্যের বাড়তি বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে শিল্পসহ অন্যান্য খাতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখার সক্ষমতাও বাড়বে।








