প্রেস সেক্রেটারি থেকে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা লিভিট

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট চলতি আগস্ট মাসের শেষে দায়িত্ব ছাড়ছেন। তবে প্রেস সেক্রেটারির পদ থেকে সরে গেলেও ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে কাজ চালিয়ে যাবেন তিনি। বুধবার (১০ আগস্ট) ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন।
বিজ্ঞাপন
মাত্র ২৮ বছর বয়সে প্রেস সেক্রেটারির দায়িত্ব নিয়ে হোয়াইট হাউসের ইতিহাসে এ পদে দায়িত্ব পালন করা সবচেয়ে কম বয়সী ব্যক্তি হন লিভিট। ট্রাম্পের প্রতি দৃঢ় আনুগত্য এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে তীব্র ও আক্রমণাত্মক বক্তব্যের কারণে দায়িত্ব পালনকালে তিনি ব্যাপকভাবে আলোচিত হন। নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন অবস্থান ও সিদ্ধান্ত তুলে ধরতেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, তার অন্যতম বিশ্বস্ত সহযোগী লিভিট পরিবারের সঙ্গে, বিশেষ করে দুই সন্তানের সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটাতে দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পদ ছাড়ার পর তিনি ট্রাম্পের ‘আউটসাইড অ্যাডভাইজার’ হিসেবে কাজ করবেন এবং রিপাবলিকান পার্টির ভেতরে প্রভাবশালী কণ্ঠস্বর হিসেবে ভূমিকা রাখবেন।
গত মে মাসে লিভিট তার দ্বিতীয় সন্তান ভিভিয়ানার জন্মের কথা জানান। মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষে হোয়াইট হাউসে ফেরার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তার দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা আসে। লিভিট বলেন, প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে প্রয়োজনীয় সময় দেওয়ার পাশাপাশি দুই সন্তানের জন্যও পর্যাপ্ত সময় দেওয়া তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিজ্ঞাপন
ট্রাম্পের সঙ্গে লিভিটের রাজনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ২০২১ সালে শেষ হওয়া ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও তিনি হোয়াইট হাউসের প্রেস অফিসে কাজ করেন। পরে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্পের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
প্রেস সেক্রেটারি হওয়ার পর লিভিট হোয়াইট হাউসের নিয়মিত ব্রিফিংকে আবার সক্রিয় করেন। তবে তার সময়ে হোয়াইট হাউস ও সাংবাদিকদের সম্পর্কের ধরনে বড় পরিবর্তন আসে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি ঘোষণা দেন, ওভাল অফিস ও এয়ার ফোর্স ওয়ানে ট্রাম্পের কাছাকাছি থেকে সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ কোন সাংবাদিকরা পাবেন, তা হোয়াইট হাউস নিজেই নির্ধারণ করবে। একই সময়ে ডানপন্থী ও ট্রাম্পপন্থী গণমাধ্যমগুলোকেও সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ নিয়ে প্রচলিত সংবাদমাধ্যমগুলোর উপস্থিতি কমে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে।
নিউ হ্যাম্পশায়ারে বেড়ে ওঠা লিভিটের পরিবার সেখানে একটি আইসক্রিমের দোকান চালাত। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ২০১৭ সালে ট্রাম্পের সমালোচনার প্রতিবাদ জানিয়ে একটি পত্রিকায় চিঠি লিখে তিনি আলোচনায় আসেন।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
২০২০ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের পরাজয়ের পর ২০২২ সালে নিউ হ্যাম্পশায়ার থেকে কংগ্রেসের একটি আসনে নির্বাচন করেন লিভিট। তবে সেই নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন। প্রচারে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন এবং আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অধিকারের পক্ষে অবস্থান ছিল তার অন্যতম প্রধান বক্তব্য।
এরপর ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে টেলিভিশন বিতর্ক ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়ে তিনি প্রশংসা অর্জন করেন। ট্রাম্পের হয়ে বিভিন্ন বিষয়ে জোরালো বক্তব্য দেওয়ার মাধ্যমে তিনি রিপাবলিকান রাজনীতিতে নিজের অবস্থানও শক্ত করেন।
বিজ্ঞাপন
দায়িত্ব ছাড়ার পরও রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন লিভিট। তিনি বলেছেন, তার রাজনৈতিক লড়াই এখন নতুন একটি পর্যায়ে প্রবেশ করছে। তবে সেই লড়াই এখনো শেষ হয়নি।








