Logo

হ্রদের বাঁধ ভাঙার শঙ্কা, প্রাণ বাঁচাতে ছুটছে নেপাল-তিব্বতের মানুষ

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৮ আগস্ট, ২০২৬, ১৫:৫০
হ্রদের বাঁধ ভাঙার শঙ্কা, প্রাণ বাঁচাতে ছুটছে নেপাল-তিব্বতের মানুষ
ছবি: সংগৃহীত

নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তে ভূমিধসের ফলে সৃষ্ট একটি কৃত্রিম হ্রদের পানি নতুন করে উপচে পড়তে শুরু করায় ভাটি অঞ্চলে আবারও ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সীমান্তসংলগ্ন দুই দেশেই উদ্ধার তৎপরতা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। নদীর পানি দ্রুত আশঙ্কাজনক উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে—এমন শঙ্কায় নেপালের রাসুয়া জেলাসহ ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য উঁচু পাহাড়ি এলাকায় চলে যেতে শুরু করেছেন।ড়

বিজ্ঞাপন

হ্রদটির প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে গেলে বড় ধরনের জলচ্ছ্বাস সৃষ্টি হতে পারে—এমন আশঙ্কায় চীনের সব উদ্ধারকর্মী ও প্রয়োজনীয় যানবাহন নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। একই পরিস্থিতিতে নেপাল অংশেও উদ্ধার কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। চীনা প্রকৌশলীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার হ্রদটিতে আটকে থাকা পানির পরিমাণ প্রায় ২৫ লাখ ঘনমিটারে পৌঁছেছে, যা আগের দিনের হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি। সম্ভাব্য বিপর্যয় ঠেকাতে আকাশপথে উড়ন্ত যন্ত্রের সাহায্যে হ্রদটির ত্রিমাত্রিক নকশা তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও ঝুঁকি মূল্যায়নে কাজ করছে চীনের একটি বিশেষজ্ঞ দল।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

গত বুধবার হিমবাহ ধসের পর পাহাড়ি নদী দিয়ে নেমে আসা কাদা, পাথর ও বরফের তীব্র স্রোতে নেপালে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে প্রায় এক হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে অন্তত ৫৪০ জন বিদেশি পর্যটক ও তীর্থযাত্রী রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ওই আকস্মিক বন্যায় কাঠমান্ডুর সঙ্গে তিব্বতের লাসাকে যুক্তকারী গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, একাধিক জলবিদ্যুৎকেন্দ্র, কালভার্ট ও পাকা সেতু ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়ে পুরো এলাকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

নেপালের রাসুয়া জেলার জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা নরেন্দ্র পারিয়ার জানিয়েছেন, হ্রদের পানি বৃদ্ধির পর স্থানীয় জনপদে জরুরি সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে এবং নদীতীরবর্তী অঞ্চলে পানির উচ্চতা ক্রমেই বাড়ছে। অন্যদিকে চীনের জিরং কাউন্টিতেও ধ্বংসস্তূপ জমে থাকায় শুক্রবার পর্যন্ত সীমান্ত পারাপার এলাকায় পৌঁছাতে পারেননি চীনা উদ্ধারকর্মীরা। সিসিটিভির তথ্য অনুযায়ী, তিব্বতের এই অংশে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন এবং ২৬০ জন বিদেশি নাগরিকসহ নিখোঁজ রয়েছেন ৫৫৮ জন।

হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় নেপালকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের জরুরি সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি পরিস্থিতিকে অভূতপূর্ব হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এমন বিধ্বংসী রূপ আগে কখনো দেখা যায়নি। তার ভাষায়, অত্যন্ত মজবুত ও সুনির্মিত ভবনগুলোও টুথপিকের মতো নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। তিনি এই দুর্যোগকে অত্যন্ত ভয়াবহ উল্লেখ করে বলেন, নেপালে সহায়তা পাঠানো হচ্ছে এবং দেশটির নেতাদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী যা চাওয়া হবে, তা-ই সরবরাহ করা হবে।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD